মা ছেলে মিলে খুন
শিবগঞ্জে নারী ব্যাংক কর্মকর্তার খুনের রহস্য উদঘাটন
বগুড়ার শিবগঞ্জে অবসর প্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম (৭১) কে ছুরিকাঘাতে খুনের রহস্য উদঘাটন ও জড়িত থাকায় সুলতানা বেগম (৪৭) নামের এক নারীকে আটক করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। আটককৃত সুলতানা বেগম ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের কূপা গ্রামের জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ টার সময় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসক
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী কূপা গ্রামের সুলতানা বেগমের বিদেশ ফেরত ছেলে রোহান রহমান সিয়াম (৩০) বর্তমানে বেকার হওয়ায় চরমভাবে আর্থিক সংকটাপন্ন হয়ে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এতে সে দিন দিন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য সুলতানা বেগম ও তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম প্রতারণার পথ বেছে নেয়। তারা মা ছেলে মিলে যে সব বাড়িতে সাধারণত পুরুষ মানুষ থাকে না সে সব বাড়ি মা ও ছেলে মিলে চিহ্নিত করে বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে আত্মীয়তা সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সুযোগ বুঝে টাকা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় তাদের এই পরিকল্পনা সফল হয় না। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সুলতানা ও তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম এর বাড়িতে আত্বীয়ের পরিচয়ে প্রবেশ করে খোশ গল্প এবং নাস্তা করে। নাস্তা করার সময় শাহানাজ বেগমের ছেলের বৌ সৈয়দা জিন্নাত আক্তার রিয়া তার ছোট সন্তান কে নিয়ে নিজ ঘরে যায় এবং শাহানাজ বেগম সুলতানা বেগম তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম কে নিয়ে নিজ ঘরে গল্প করতে থাকে। গল্পের এক পর্যায়ে সুলতানা বেগম ও তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম শাহানাজ বেগম এর নিকট টাকা ধার চাইলে টাকা ধার দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মা ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে পরস্পররের সহযোগীতায় শাহানাজ বেগম কে জিম্মি করে জোর পূর্বক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে শাহানাজ বেগম বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার মুখ বেঁধে চাকু দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে মা সুলতানার সহযোগীতায় ছেলে রোহান রহমান সিয়াম শাহানাজ বেগমের গলায় গভীর রক্তাক্ত ক্ষত জখম করে। পাশের ঘরে থাকা ছেলের বৌ রিয়া শাশুড়ির ঘর হতে গলার অস্বাভাবিক কণ্ঠস্বর শুনে শাশুড়ির ঘরে যেতে চাইলে দেখেন যে, তার নিজ ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো। তখন সে জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির ভাবি সহ অন্যান্য লোকজন দের ডাকাডাকি করিলে সুলতানা ও রোহান রহমান সিয়াম পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন শাহানাজ বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক বগুড়া শজিমেক, হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।





