শরীয়তপুরে কলেজ ছাত্রীর হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তসহ বিচারের দাবি

Sanchoy Biswas
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নড়িয়া সরকারি কলেজছাত্রী তানজিলা আক্তারের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিহতের পরিবার, নড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে জানানো হয়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলারগাঁও এলাকার তানজিলা আক্তারের সঙ্গে বাহির কুশিয়া এলাকার অপু বেপারীর গত ৪ জানুয়ারি সম্পর্ক করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তানজিলার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে অপু ও তার পরিবার। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় ২৩ এপ্রিল রাতে তানজিলাকে তার মাদকাসক্ত স্বামী অপু বেপারী, শ্বশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগম শারীরিক নির্যাতন করে। পরে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মূলফৎগঞ্জে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাকে বাড়িতে এনে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে তানজিলার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি। পরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সঠিক মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে সফট বাইট ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে কি কেবলই অর্থ আত্মসাৎ?

পুলিশ জানায়, মামলার পর ২৭ এপ্রিল শরীয়তপুর আদালত চত্বর থেকে তানজিলার স্বামী অপু বেপারী, শ্বশুর রাসেল বেপারী, শাশুড়ি আলো বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৮ এপ্রিল ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ৩০ এপ্রিল এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সুরতহাল শেষে তানজিলার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তানজিলার সঙ্গে কী হয়েছে তা বলতে পারবে পুলিশ।

নিহত তানজিলার বড় বোন শাকিলা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে তার স্বামী অপু বেপারী ও তার শ্বশুর রাসেল বেপারী, শাশুড়ি আলো বেগম নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা গ্রহণে টালবাহানা করে। পরে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী হত্যা মামলা না নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা (ধারা ৩০৬) হিসেবে মামলা রুজু করা হয়, যা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে।

আরও পড়ুন: কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু

তিনি বলেন, আমরা আমাদের বোনের শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি, জানাজাতেও দাঁড়াতে পারিনি। ন্যায়বিচারের দাবিতে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। মামলা গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হয়েছে। মামলাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে এবং আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।

জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির নিহতের ছবি হাতে নিয়ে বলেন, নিহতের শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন থাকলেও ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতিবেশীদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তানজিলা আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে তানজিলার সঙ্গে কী হয়েছিল।