পটুয়াখালী সফট বাইট ম্যানেজারের মৃত্যু ও সাদিককে আটকের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

Sanchoy Biswas
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৬ অপরাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জেলার বেসরকারি কেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সফট বাইটের ম্যানেজার ফয়সাল বাদশার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইমাম হোসেন সাদিককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন বন্ধু, স্বজন ও এলাকাবাসী।

রোববার সকালে জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণ থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় ভাটেরা জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবার যাত্রা শুরু

মানববন্ধনে সাদিকের বন্ধু-স্বজন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এতে সফট বাইটের কো-ফাউন্ডার রুমপা আক্তার আধুরী, অ্যাডভোকেট অলিউল্লাহ, মুহাইমিন মোহাম্মদ অনিক, এসএম হাবিবুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর রাকিব আকন, আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ৯ আগস্ট ফটিকছড়ি আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি, চারদিকে সাজ সাজ রব

বক্তারা বলেন, একটি মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবেগপ্রবণ হয়ে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়; বরং প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।

বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ হিসাব পর্যালোচনায় বিক্রয় ও অর্ডার সংক্রান্ত হিসাবে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে এবং একাধিক লেনদেন যাচাই করে প্রায় আট লাখ টাকার গরমিল শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ বিষয়ে দায় স্বীকার করে লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করেন এবং ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

বক্তারা জানান, ঘটনার দিন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজেই সহকর্মীকে নিয়ে বাসায় গিয়ে অচেতন অবস্থায় ফয়সালকে দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা প্রকৃত তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তারা বলেন, কোনো ধরনের গুজব নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় বক্তারা সাদিকের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা, তার হেফাজতের বিষয়টি স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিকভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি তোলা হয়।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্য থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।