শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ যুবকদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ১১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম শিফটের শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফ (১৭)।
সোমবার (৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ও বসতবাড়ির ৩ কক্ষ পুড়ে ছাই
নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালীগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেকের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পরদিন ২৯ মে বিকেল ৪টার দিকে শেরপুর শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় অবস্থান করছিলেন সাইফ। এ সময় নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০), স্বপন (২১) ও আরমান (২০) নামের কয়েকজন যুবক সেখানে ছবি তোলার জন্য তাকে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। সাইফ এতে রাজি না হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর পবায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, তদন্তে পুলিশ
একপর্যায়ে ওই যুবকরা সাইফকে মারধর করেন। পরে মোবাইল ফোনে আরও ১০-১৫ জনকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা সাইফকে মারধরের পাশাপাশি রাস্তার পাশে জমে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইফের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৬ জুন সাইফের মা রেবেকা সুলতানা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে শেরপুর সদর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুর ঘটনায় মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।





