৮৬ শিক্ষার্থীর ২১ শিক্ষক

বুধীরহাট কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

Sadek Ali
ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৭ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভায়ালক্ষীপুর বুধীরহাট কলেজের শিক্ষার্থী ৮৬ জন। পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছে ২১ জন। কলেজে শিক্ষকদের উপস্থিতি পাওয়া যায় অর্ধেকেরও কম। শিক্ষকরা অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ সময় ছুটি নিয়ে থাকেন। নিজ স্বাধীন মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজিরা দেন। চারঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কলেজের বিবিধ অনিয়মের অভিযোগ জেনেও না জানার অভিনয় করছেন। 

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বুধীরহাট কলেজ। আ’লীগ সরকারের সময় ৬ জুলাই ২০২২ সালে এমপিও ভুক্ত হয় এই কলেজ। প্রতিষ্ঠানের শুরু লগ্ন থেকে কিছু শিক্ষকদের সনদ জটিলতা, ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়ার মান-উন্নয়ন নিয়ে অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়। 

আরও পড়ুন: নান্দাইলে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

‘কয়লা ধুলে ময়লা যায়না’ প্রবাদের মতোই অভিযুক্ত কিছু শিক্ষক তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে পারেনি। আ’লীগ সরকারে সময় তাদের ছত্রছায়াই, বর্তমান তাদের রূপরেখা বিএনপি ক্ষমতায় আদর্শ ধারণ করছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজে ৬-৭জন শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন, বাকিরা অজুহাতে অনুপস্থিত। হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর ফাকা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ইন্ধনে সপ্তাহে একদিনে হাজিরা স্বাক্ষর পূরণ করে থাকে। 

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের তথ্যমতে শিক্ষক আছে ২১জন, প্রদর্শক রয়েছে ৮জন অন্যান্য কর্মচারী ১১জন। এই কলেজের প্রদর্শক শিক্ষকদের চেয়ে প্রভাব বেশি। ইচ্ছা স্বাধীন মতো তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন। নিয়মিত কর্মকান্ডে ৮জনের একজনও প্রদর্শকের দেখা মিলেনি। 

আরও পড়ুন: কুলাউড়া বালিকা স্কুলে জলবায়ু সচেতনতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন

এবিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, তাদের কোন কাজ নেই এই প্রতিষ্ঠানে। হঠাৎ প্রয়োজন হলে অধ্যক্ষ বা পিয়নের মাধ্যমে তাদেরকে তলব করা হয়। তবে প্রদর্শকরা সপ্তাহে এক-দুদিন কলেজে গিয়ে হাজিরা খাতা স্বাক্ষর করেন।  

কলেজের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষিকারাও রয়েছেন চরম শান্তিতে। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি, রসায়ন, পদার্থ, জীব বিজ্ঞানসহ ব্যবসা বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের নেই ঝামেলা।

নাম না প্রকাশে কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, মানবিক, বিজ্ঞান ও কমার্স শাখা থাকলেও পাঠদান দেওয়ার মতো শিক্ষকের অভাব। ইংরেজি শিক্ষককের ক্লাস তারা বুঝে উঠতে পারেন না, কিছু গাইড দেখে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ৪-৫ জন, কমার্স শাখাও বেশ কম। যার কারণে ওই সকল বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের উপস্থিতি ডুমুরের ফুলের মতো।  

বুধীরহাট কলেজ (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ তৈয়বুর রহমান অভিযোগ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তিনি শুধু বলেন, পরে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত জানাবো। 

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) লায়লা আক্তর জাহান বলেন, কলেজের বিষয়ে সিন্ধান্ত নিয়ে থাকেন আঞ্চলিক পরিচালক। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মূলত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দেখাশুনা করেন। গত ১লা জানুয়ারী ২৬ তারিখ থেকে এই চারঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার নেই। বর্তমান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে চারঘাট শিক্ষা অফিস দেখছেন। বুধীরহাট কলেজের বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।