জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগেই দেশের রাজনীতির নতুন ধারা রচিত হয়েছে: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

Sanchoy Biswas
রিদুয়ান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:১১ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, আজ বাংলাদেশের রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক নতুন ধারায় রচিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যে অভূতপূর্ব ত্যাগ ও আত্মত্যাগ সৃষ্টি হয়েছে, তার কৃতিত্বের অন্যতম প্রধান দাবিদার চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরাম। সে সাহসী যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ৩৬ জুলাইয়ের যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে শহীদ হয়েছে এবং বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকীতে ফেনীতে ১১ দলের র‍্যালি

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, “যারা ৩৬ জুলাই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না, তারা আমার এ আবেগ সম্পর্কে জানবেন না। মূলত ২০২৪-এর এই জুলাই যুদ্ধ ছিল ১৮ কোটি বাংলাদেশি ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা—সকলেরই এক সম্মিলিত সংগ্রাম। কেউ সক্রিয়ভাবে এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, কেউ সমর্থন ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, আবার কেউ জুলাই যোদ্ধাদের খাবার ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের সব মানুষই এই যুদ্ধে শামিল হয়েছেন।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার এবং তার দোসররা এ দেশে যে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, নিপীড়ন, মামলা ও হামলা ঘটিয়েছে, তা জাতি কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না। ওই সরকারের আমলে শত শত যুবক, কিশোর ও মা-বোন গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন: মধ্যনগরে ৮২ গ্রামের সম্মিলিতভাবে রথযাত্রা উৎসব পালিত

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের আলোচনা সভা শোকের নয়, এটি শক্তি সঞ্চয়ের সভা। জুলাইয়ের শক্তিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং দেশ একটি গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছে। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছাত্রদলের সদস্য থাকলেও, তার চেয়ে বড় পরিচয়—সে ছিল ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের একজন বীর সৈনিক। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা কখনো চেতনা নিয়ে ব্যবসা করেন না। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টির বেশি পণ্য এবং স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন ব্যয়বহুল জিনিসপত্রের দাম কমানো হয়েছে। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ একটি মানবিক ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে ম্যান্ডেট প্রদান করেছে এবং দলটি ২১৪টি আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রটি সবার হৃদয়ে লালন করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “শহীদ ওয়াসিমসহ যেসব জুলাই যোদ্ধা জীবন দিয়েছেন, আমরা তাদের ইতিহাস অবশ্যই সংরক্ষণ করব। প্রকৃত শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এ দেশে ফ্যাসিবাদ যেন আবার ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ নতুন করে ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা রুখে দেবে। দেশের জন্য যারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের জাতির কাছে যথাযথভাবে সম্মানিত করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী প্রমুখ।