সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু, লক্ষ্মীপুরে শোকের মাতম

Sadek Ali
জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:২১ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিদেশের মাটিতে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর। মর্মান্তিক এই সংবাদে গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।

নিহতরা হলেন, ফয়েজ আহমেদ সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। তাঁরা উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফা বাড়ির ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলে। জীবিকার তাগিদে দুই ভাই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগেই দেশের রাজনীতির নতুন ধারা রচিত হয়েছে: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

নিহতদের সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে (ভোররাতে) সৌদি আরবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী  সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে দুই ভাই প্রাণ হারান।

গতকাল বুধবার দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কামারহাট বাজারসহ পুরো চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। আদরের দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা আব্দুল মালেক ও মা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গণিপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস।

আরও পড়ুন: আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকীতে ফেনীতে ১১ দলের র‍্যালি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের বড় দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এলাকাবাসী জানান, তাঁরা কেবল পরিবারের হাল ধরতেই প্রবাসে গিয়েছিলেন, কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ঢল নেমেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল তাঁদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় আছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে  ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। স্বজনদের আকুতি, অন্তত: শেষবারের মতো যেন দুই ভাইয়ের মুখ দেখার সুযোগ পান এবং নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করতে পারেন।