বগুড়ায় অস্ত্র ও মাদকসহ ৭ মামলার বিএনপির সাবেক নেতা খুন
বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া চালিতাবাড়ি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এবং অস্ত্র, মাদক ও মারপিটসহ ৭ মামলার আসামি বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান সাগর (৩৫) প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। নিহত সাগর পাঁচবাড়িয়া চালিতাবাড়ি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। নিহত সাগরের এক কন্যাসন্তান আছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও নিহত সাগরের নামে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও মারামারিসহ মোট ৭টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভৈরবে সেরা বিদ্যালয়ের সম্মাননা পেল কমলপুর মোজাফফর বেপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবৈধ মাদক কেনাবেচা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগর মণ্ডলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাগরের স্ত্রী মারজিয়া আক্তার জানান, সাগরের বাড়ি পাঁচবাড়িয়া গ্রামে হলেও তিনি কয়েক মাস যাবৎ পার্শ্ববর্তী চালিতাবাড়ি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে সাগর নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেতে এলে দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর বাইরে হৈচৈ শুনে তিনি বের হন। এ সময় পাশের বাড়ির উঠানে সাগরকে রক্তাক্ত ও কর্দমাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দাবি, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও শত্রুতার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: লংলা কলেজে নজরুল বিষয়ক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব থেকেই সাগরদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। তারই প্রেক্ষিতে সাগরের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে তিনি মারা যান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও নিহতের নামে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও মারামারিসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





