ধুরুং খালের ভয়াবহ ভাঙনে ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক বিলীন হওয়ার শঙ্কা

Sadek Ali
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি
প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৭ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধুরুং খালের ভয়াবহ ভাঙনে ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর আটারোটিলা বটতল এলাকার বাইন্যাছোলা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ধরুং খালের এ ভাঙ্গনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গ্রামের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলমান এ ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত ২০ কানি কৃষিজমি ও বেশ কয়েকটি দোকান খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনস্থলের আশপাশে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। আজাদীপাড়া ও আটারোটিলা এলাকার প্রায় ৮০টি পরিবার সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ভাঙন সড়কের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আর মাত্র প্রায় ৫০ মিটার ভাঙন এগোলেই সড়কটি হুমকির মুখে পড়বে। এতে ফটিকছড়ি ও খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি বাইন্যাছোলা ব্রিজও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদকবিরোধী প্রচারণায় ফুটবল প্রতিযোগিতায় চরশেরপুর ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, বাইন্যাছোলা ব্রিজ এবং ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক-সবকিছুই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গনী বাদশা বলেন, আমাদেরকে বাঁচান, কৃষকদের বাঁচান। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল হালিম জানান, এটি পুরাতন চমুরহাট এলাকা। এখানে একসময় অনেক দোকানপাট ছিল। ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচ বিঘা জমি খালের গর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও প্রায় ১০ বিঘা জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষক সোলাইমান ও শফিউল আলম জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ছোট আকারে ভাঙন শুরু হলেও বর্তমানে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে, ফলে কৃষিজমি হারিয়ে অনেক পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, একসময় খালটি রাস্তা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। বছরের পর বছর ভাঙতে ভাঙতে এখন রাস্তার পাশ পর্যন্ত চলে এসেছে। আমার নিজের তিন কানি কৃষিজমি ও একটি দোকানও খালের গর্ভে চলে গেছে। কৃষকদের বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা কপিল উদ্দীন বলেন, বর্তমান ভাঙনের গতিতে আর মাত্র কিছুদুর এগোলেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাঞ্চননগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মুজাম্মেল হক তালুকদার বলেন, এই সড়কটি ফটিকছড়ি ও লক্ষীছড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। আগে খালটি উত্তর পাশে ছিল। সামনে পাহাড় থাকায় পানির প্রবল স্রোত এখন এপাশে আঘাত করে ভাঙন সৃষ্টি করছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ধুরুং নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ  পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি ও সার্ভেয়ার দল ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিমাপ সম্পন্ন করেছে। মানিকপুর এলাকার ধুরুং নদীর প্রায় ১৩০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট চাহিদা পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামত কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।