আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ
ঢাকার আশুলিয়ায় ক্লথিং কার্নিভালস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শ্রমিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।
বুধবার (২সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার বগাবাড়ি এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাইপাইল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: সরকারী খাল উদ্ধারে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ভরাট বালু নিলামে বিক্রি
মানববন্ধনে শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, কারখানাটির অনেক শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধ করছে না। এতে বাসাভাড়া, দোকানের বকেয়া ও সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা।
কারখানার শ্রমিক রাবেয়া বসরী বলেন,আমি দুই মাসের বেতন পাব। খুব কষ্টে দিন কাটছে। বাসাভাড়া ও দোকানের বাকি দিতে পারছি না। কারখানা কর্তৃপক্ষ শুধু সময় নেয়, কিন্তু টাকা দেয় না।
আরও পড়ুন: আগাম শিম চাষে ব্যস্ত কালীগঞ্জের কৃষক, মিলছে ভালো দাম
আরেক শ্রমিক রুনা লায়লা বলেন,আমাদের কষ্টের টাকা না পেলে আমরা চলব কীভাবে? টাকা চাইতে গেলে মারধর ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
কারখানার সুপারভাইজার জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন,আমরা বেতন চাইতে গেলে বাসায় সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। আমরা এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।
কারখানাটির সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাকির হোসেন বলেন,আমিও দুই মাসের বেতন পাব। আমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে আছি। এই শ্রমিকদের অনেককেই আমার হাত দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দুঃখ-কষ্ট দেখে আমিও মানববন্ধনে এসেছি।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানার ম্যানেজার মাকসুদ বলেন,সবাই টাকা পাবে না। মাত্র ২২ জন শ্রমিকের টাকা পাওনা রয়েছে। এই ২২ জন সব শ্রমিককে নিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কোনো হুমকি-ধমকি দিইনি। এগুলো হয়তো স্থানীয় লোকজন দিয়েছে।
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন, মোহাম্মদ আক্কাছ আলী সাগর, মাসুদ রানা সুলতান ও মুনসুর আলী এবং ক্লথিং কার্নিভালস লিমিটেডের সাবেক জিএম জাকির হোসেনসহ কারখানাটির ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে শ্রমিকেরা দ্রুত তাঁদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।





