শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৭ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: অবৈধ ও লুটের অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার তাদের সঙ্গে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই।’

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দর ইউনিট কল্যাণ কমিটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। যারা নিখোঁজ বা অনুপস্থিত রয়েছেন, তারা কোথায় ও কী অবস্থায় আছেন, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা স্মরণ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা, বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

বাস্তবতার কারণে সবকিছু দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় অর্জনের জন্য যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন, তারা দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শহীদ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করতে পারেন সরকার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সরকারের দৃষ্টিতে এসব পরিবারের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতাই সরকারকে পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস দিচ্ছে। তারাই সরকারের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারাও যেন সরকারকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেন। শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে সরকার কাজ করতে চায়।

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।