নীলফামারীতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

Shahrier Islam Pallab
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষাকে ঘিরে জেলার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার মতো নীলফামারীতেও এ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান বিশ্বের কর্মবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তরুণদের এই পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুই মাস মেয়াদি এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারিক ও কর্মমুখী বিষয়ে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান। এ সময় তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, নীলফামারীর উপপরিচালক মোঃ দিলগীর আলম, সহকারী পরিচালক হাসান আলী, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ছবি রানীসহ প্রকল্প ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই মাস মেয়াদি এআই প্রশিক্ষণের জন্য নীলফামারী জেলায় মোট ১ হাজার ৪৩৭ জন আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করে শনিবারের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ৪৪৭ জন। এসব পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ২৫ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে টিকে থাকা কঠিন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নীলফামারীর উপপরিচালক মোঃ দিলগীর আলম বলেন, নীলফামারীর তরুণদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই নিয়ে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আবেদনকারীর সংখ্যা থেকেই বিষয়টির প্রতি তরুণদের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট। সীমিত সংখ্যক আসনের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদন পড়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীরা দুই মাসের প্রশিক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ছবি রানী বলেন, এআই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের ধরন পরিবর্তন করছে। তাই তরুণদের শুধু প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচিত করে তোলা সময়ের দাবি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি হবে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নোশিন আনজুম জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে শেখার আগ্রহ থেকেই এ প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেছি। তার মতে, এআই সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে নিজেদের আরও প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ রানা বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এআই সম্পর্কে জানা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া আমাদের মতো তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, নির্বাচিত হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাব।”

অন্য এক পরীক্ষার্থী সুর্বর্ণা রানী বলেন, “এআই এখন শুধু উন্নত বিশ্বের বিষয় নয়, বাংলাদেশেও এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আমরা যদি সময়ের সঙ্গে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারি, তাহলে দেশের ভেতরে ও বাইরে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারব।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দিনব্যাপী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আগ্রহে কেন্দ্রজুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচিত ২৫ জন তরুণ-তরুণী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবেন।