বৈঠার ছন্দে মুখর কালীগঙ্গা

Shahrier Islam Pallab
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৯ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢোলের তালে মাঝিদের হাঁকডাক, বৈঠার ছন্দে ছুটে চলা রঙিন নৌকা আর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কালীগঙ্গা নদী। ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাসুদ রানা নৌকাকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কসাইবাড়ি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জামশা ইউনিয়নের মাটিকাটা গোলাই-বালুরচর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিংগাইরের বিভিন্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে ১০টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির সমাবেশ

দক্ষিণ মাটিকাটা গ্রামের উদ্যোগে এবং গোলাই, জামশা, বাস্তা, সারারিয়া, দাড়িপাড়া ও বরন্ডি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচের। পাঁচ ধাপে প্রতিযোগিতা শেষে চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয় কসাইবাড়ি ও মাসুদ রানা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কসাইবাড়ি চ্যাম্পিয়ন এবং মাসুদ রানা রানার্সআপ হয়।

নটর ডেম কলেজের প্রভাষক উমর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। উদ্বোধন করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী ইয়াকুব হোসেন রাজা। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন কবির, সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন: কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর, নবজাতকের মৃত্যু

প্রতিযোগিতায় উড়িয়াবাজ, প্রবাসী, কসাইবাড়ি, একতা-২, মাসুদ রানা, ঐতিহ্য, সোনার তরী, কাইলান তুফান মেইল ও হাতনির রাজ নৌকা অংশ নেয়। নৌকাবাইচ দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে। বাড়ির ছাদ, গাছের ডাল, ট্রলার ও ডিঙি নৌকা—যেখানেই জায়গা মিলেছে, সেখান থেকেই দর্শকেরা উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে মোটরসাইকেল এবং পরবর্তী বিজয়ী দলগুলোকে চারটি ফ্রিজ, টিভিসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা বলেন, নৌকাবাইচ বাংলার নদীমাতৃক সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটছে।