লালমনিরহাটে মাটির নিচে ড্রামে মিলল ২,৩০০ বোতল মাদক, গ্রেপ্তার ২
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বসতবাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে ড্রামে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। এ ঘটনায় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ২ হাজার ৩০০ বোতল আমদানিনিষিদ্ধ সিরাপ ও ১৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদিতমারী উপজেলার দক্ষিণ তালুকপলাশী (বাওয়ারচারা) এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ইজিবাইকের ৫ যাত্রীর মৃত্যু
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আদিতমারী উপজেলার দক্ষিণ তালুকপলাশী এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (২৫) এবং রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চরইশরকোল গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জীমবাবু (১৮)।
এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ তালুকপলাশী এলাকার হাবিবুর রহমানের বসতবাড়িতে মাদকদ্রব্য মজুত রাখা হয়েছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি বিশেষ ড্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: হরিরামপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন
উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে ৩১ বোতল এসকাফ ও ১৯৯ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ছাড়া অপর গ্রেপ্তার জীমবাবুর দেহ তল্লাশি করে ১৮৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
মাটির নিচে মাদক মজুতের কৌশল
বসতবাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে ড্রাম পুঁতে মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ তল্লাশিতে যাতে সহজে মাদক শনাক্ত করা না যায়, সে উদ্দেশ্যে এভাবে মাদক মজুত করা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মাদকদ্রব্যের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।





