এ বছর জৈন্তাপুরে ২১টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় এ বছর ছয়টি ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব। পূজাকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সিসি ক্যামেরা ও অনুদানের অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নে চারটি, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নে চারটি, ৩ নম্বর চারিকাটা ইউনিয়নে চারটি, ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নে একটি, ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নে একটি এবং ৬ নম্বর চিকনাগুল ইউনিয়নে সাতটি পূজামণ্ডপ রয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় পূজামণ্ডপগুলোর নামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম এবং যোগাযোগের নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৫ ঘণ্টা পর বিএসএফের কাছ থেকে দেশে ফিরলেন দুই পুলিশ সদস্য
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পূজা চলাকালে প্রশাসনিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সিসি ক্যামেরা ও অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কলাপাড়ায় জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন, ‘ঋণ নয়, ক্ষতিপূরণ চাই’
ইউএনওর বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুনন্দা রায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আয়োজকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।
ওসির বক্তব্য
এর আগে গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায় জৈন্তাপুর মডেল থানার হলরুমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন থানা পুলিশ। এতে সভাপতিত্ব করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। সভা পরিচালনা করেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল আমিন মীর।
সভায় ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। জৈন্তাপুরে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের বিশেষ টিম নিয়মিত টহল দেবে। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি করা হবে। কোনো সমস্যা বা সন্দেহজনক ঘটনা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।
মহাসড়কের পাশে থাকা পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোতে বাড়তি সতর্কতা এবং প্রতিমা আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, তাদের তালিকা থানায় জমা দেওয়া এবং অচল সিসি ক্যামেরা দ্রুত সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নিবারণ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক প্রণত কান্ত দেবের স্বাক্ষরে প্রকাশিত তালিকায় উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে এ বছর জৈন্তাপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।





