ফটিকছড়িতে ১২৭ পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসব
ফটিকছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বী দের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাড়া মহল্লায়।পূজামণ্ডপগুলো সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। পূজা- আর্চনা, ঢাকের আওয়াজে আসছে ভেসে। ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ-উৎসব।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে,ফটিকছড়িতে এবার ১২৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪টি ফটিকছড়িতে এবং ৫৩টি উত্তর ফটিকছড়িতে।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম দুর্গাপূজা সুশৃঙ্খলভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
ফটিকছড়ি উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রতন কান্তি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দেবনাথ বলেন,দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে । পূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আয়োজকেরা আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ফটিকছড়িতে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হবে।
এবার মহামায়ার দেবি দুর্গার আগমন ঘটেছে ঘোটকে (ঘোড়ায়) আর বিদায় নেবেন নৌকায়।
এ বছর সপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন ধরে। এ হিসেবে পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
এদিকে সংসদীয় এলাকার ভুজপুরের খৈয়া চা-বাগান, আছিয়া চা-বাগান,সুয়াবিল সিদ্ধাশ্রম,সূর্যগিরি আশ্রম পূজামণ্ডপসহ একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর। এ সময় তিনি পূজারীদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানি বা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো পূজামণ্ডপে অঘটন ঘটলে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি।” অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামে আসবেন।”
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, প্রবীণ বিএনপি নেতা মিহির চক্রবর্তী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সদস্যসচিব রোটারিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী, ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিফন, ওসমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মিহির দে, আবু আজম তালুকদার, নাজিম উদ্দীন বাচ্চু, নুরুল ইসলাম তালুকদার, জাহেদ ইসলাম মেম্বার, মো.সাইফুদ্দিন, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, নুরুল আলম, ডা. বরুন কুমার বলাই আচায্য, সুজন দেসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এরপর সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর পঞ্চবটি চা-বাগানে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পূজারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পুলিশকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।





