বন্দর উপজেলায় উদ্বোধনের আগেই ১৬ লাখ টাকার শৌচাগার ভাঙার অভিযোগ

Shahrier Islam Pallab
ইউসুফ আলী প্রধান, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৪ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় উদ্বোধনের আগেই ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জনশৌচাগার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় নির্মিত শৌচাগারটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটি কেন ভেঙে ফেলা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় বন্দর উপজেলায় তিনটি জনশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন শৌচাগারটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছিল। তবে উদ্বোধন কিংবা জনসাধারণের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার আগেই উচ্ছেদ অভিযানের সময় এটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন

প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি এভাবে ধ্বংস হওয়ায় সরকারি অর্থের ব্যবহার ও প্রকল্পের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শৌচাগারটি নির্মাণের পর কেন ভেঙে ফেলা হলো এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটির পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন মেয়র শাহাদাত

বন্দর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সামিক ইশরাক জানান, তাঁদের প্রকল্পের আওতায় নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শৌচাগারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে উচ্ছেদ অভিযানের সময় স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শৌচাগারটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, জনসাধারণের প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি স্থাপনা উদ্বোধনের আগেই কেন ধ্বংস করা হলো? এ ঘটনায় সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয়ের দায় কার, তা নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শৌচাগারটি ভেঙে ফেলার কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, স্থাপনাটি হস্তান্তর এবং উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত—সব বিষয় খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।