পুডং গংলি হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামকে সংবর্ধনা

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৩ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চীনে রোবোটিক সার্জারির ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাংহাইয়ের পুডং গংলি হাসপাতালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলামের সম্মানে এক বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বাংলাদেশের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজির উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির প্রসার এবং দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধ্যাপক ঝং ওয়াং এসআইইউ ফেলো হিসেবে অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলামের পেশাগত দক্ষতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজিসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে অধ্যাপক রফিকূল ইসলামের উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের ইউরোলজি খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণের ফলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হওয়া দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রোবোটিক সার্জারিকে টেকসই ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ সার্জন ও প্রশিক্ষিত অপারেশন থিয়েটার টিম তৈরি, নিয়মিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন: আখচাষীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বৈশ্বিক পদক্ষেপ

অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বলেন, রোবোটিক সার্জারি আধুনিক অস্ত্রোপচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা উপযুক্ত রোগী নির্বাচন ও দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হলে জটিল অস্ত্রোপচারে সূক্ষ্মতা এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোলজির বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির পরিসর সম্প্রসারণের পাশাপাশি এন্ডোইউরোলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি চীনের চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রোবোটিক সার্জারিতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসকদের জন্য রোবোটিক সার্জারিতে উচ্চতর ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের জ্ঞান বিনিময় এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ফেলোশিপ, পর্যবেক্ষণমূলক প্রশিক্ষণ, যৌথ কর্মশালা এবং অভিজ্ঞ চীনা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি রোবোটিক সার্জারির প্রযুক্তিগত পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা-প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বিশেষভাবে টেলিসার্জারির সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নত যোগাযোগপ্রযুক্তি ও দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থা, রোগীর নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। চীনের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশীয় দক্ষ জনবল তৈরি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যে চীনের সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক রফিককে পুডং গংলি হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননাসূচক স্মারক উপহার তুলে দেন উক্ত হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের প্রধান ঝং ওয়াং।

উল্লেখ্য যে, গত ২৫-১০-২৬ ইং তারিখে এসআইইউ ফেলো হিসেবে পুডং গংলি হাসপাতালের আমন্ত্রনে রোবোটিক সার্জারীর উপরে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য চীনে যান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রফিকূল ইসলাম।