আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন: কঠোর অবস্থানে পুলিশ, মাঠে ডিআইজি

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৩ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ও সাভার। আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ-শ্রমিক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পরিস্থিতি পরিদর্শনে আশুলিয়ায় আসেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: খুলনায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ১২ দিনে সাত খুন

পরিদর্শন শেষে ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোববার সকালে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি সরকার আইনগতভাবে দেখছে। এরপরও যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, তারা শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয়, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে হাটিপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উদ্বোধন

তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং তাদের ইন্ধনদাতাদের তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধে যার যতটুকু সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে ততটুকু কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে ডিআইজি বলেন, শ্রমিকেরা নির্বিঘ্নে কাজে ফিরুন, পুলিশ তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার মালিকদেরও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান চালু রাখার আহ্বান জানান তিনি। কারখানা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে বলেও আশ্বস্ত করেন।

ডিআইজি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে জেলার সর্বোচ্চসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু শ্রমিক নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশ মাঠে রয়েছে।

এদিকে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রমিকের মৃত্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এর সত্যতা জানতে চান। তাঁর দাবি, একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে গার্মেন্টস শিল্প ও দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

এসপি বলেন, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহিংসতায় ইন্ধন দিচ্ছে, অর্থায়ন করছে কিংবা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে শ্রমিক নেতা হলেও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, কারখানায় হামলা এবং শ্রমিকদের আহত করার চেষ্টায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযান চলমান থাকায় গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা পরে জানানো হবে।