ঈদের বিশেষ আপ্যায়নে অনন্য নজির কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে

Any Akter
সোহেল রানা
প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:২২ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই মহৎ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আইজি প্রিজন্স ও ডিআইজি (প্রিজন্স)-এর নির্দেশনায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে উৎসবমুখর, মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করা হয়েছে। জেলা কারাগারের কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বন্দিদের কল্যাণ, মানসিক পুনর্বাসন এবং মানবিক বিকাশে নেওয়া হয় একাধিক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী উদ্যোগ, যা কারা ব্যবস্থাপনায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ঈদের সকালে বন্দিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয় কারা প্রশাসন। পরে তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় পায়েস, নুডুলস, গরুর মাংসসহ বিভিন্ন সুস্বাদু ও উন্নতমানের বিশেষ খাবার, যা বন্দিদের মাঝে ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের একঘেয়েমি ভেঙে এ আয়োজন কারাগারের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করে এক উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক পরিবেশ।

আরও পড়ুন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা সিটির দুই প্রশাসকের কাজ কি?

শুধু বন্দিরাই নন, ঈদ উপলক্ষে সাক্ষাৎ করতে আসা তাদের স্বজনদের প্রতিও দেখানো হয় বিশেষ শ্রদ্ধা, সম্মান ও আন্তরিক মানবিক আচরণ। কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও কারা চত্বরে ছিল সৌজন্য, সহমর্মিতা ও সম্মানবোধের উজ্জ্বল উপস্থিতি। বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবার যথাযথ মর্যাদা ও যত্নের সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হয়। অনেক স্বজন জানান, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মানজনক অভ্যর্থনায় তারা অভিভূত হয়েছেন।

বন্দিদের একাধিক স্বজন জানান, বর্তমান কারা প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, উন্নত খাবারের মান, শৃঙ্খলা এবং সর্বোপরি মানবিক আচরণে তারা গভীরভাবে সন্তুষ্ট। তাদের ভাষায়, বর্তমান জেলার ও জেল সুপারের এমন ব্যতিক্রমী, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক উদ্যোগ অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। সাক্ষাতে বন্দিদের কাছ থেকেও তারা কারাগারের ভেতরের ইতিবাচক পরিবেশের কথা শুনেছেন।

আরও পড়ুন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফারজানা আক্তার বলেন,।“কারাগার শুধু শাস্তি কার্যকরের স্থান নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মোপলব্ধি ও নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষ পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। বন্দিদের প্রতি দায়িত্বশীল, সহানুভূতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাদের ভেতরে ইতিবাচক পরিবর্তনের বীজ বপন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন,“পবিত্র ঈদুল আজহার এই আনন্দঘন দিনে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ আপ্যায়নের মাধ্যমে আমরা বন্দিদের মনে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি—সমাজ তাদের ভুলে যায়নি। ভালোবাসা, সম্মান ও মানবিক স্পর্শ একজন মানুষকে নতুনভাবে বাঁচার প্রেরণা দেয়।

কারা প্রশাসনের এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী উদ্যোগ বন্দিদের দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের গ্লানি অনেকটাই লাঘব করেছে বলে জানা গেছে। ঈদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন বন্দিদের মনে জাগিয়েছে স্বস্তি, আশাবাদ এবং নতুন জীবনে সমাজে ফিরে যাওয়ার প্রত্যয়। কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের এ আয়োজন মানবিক কারা ব্যবস্থাপনার এক উজ্জ্বল, অনুকরণীয় ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।