তাদের অপেশাদার ভূমিকায় বিব্রত নীতি নির্ধারকরা
কিছু পুলিশের হঠাৎ অতি উৎসাহের রহস্য কী?

পুলিশের একশ্রেণীর কর্মকর্তার হঠাৎ করেই অতি উৎসাহী ভূমিকায় রাজনীতিতে অস্তিত্বশীলতা তৈরীর অভিযোগ উঠেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে নীতি নির্ধারকরা বিব্রত হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে তাদের পক্ষে অবস্থান নিতে হচ্ছে। এতে জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা সহ দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে থেকেও গত সপ্তাহে নিবিড় পর্যবেক্ষণ বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির ফিরে যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট যোগীয় পুলিশিং এর দিকে।
অনুসন্ধানে জানা যায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী কোন প্রকার সংস্কার ছাড়াই বঞ্চিত দাবিদার কতিপয় কর্মকর্তাদের পুলিশের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। রাজধানী ঢাকার রাজনীতির মূল কেন্দ্র রমনা বিভাগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ কি এখানে সরকার বা রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি আরো নিবিড় ভাবে মোকাবেলা করতে পারত না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়েও মাঠে গিয়ে কনস্টেবল বা এসআই এর ভূমিকা অবতীর্ণ হয়। অপেক্ষায় থাকে টেলিভিশন ক্যামেরার চেহারা দেখানো। মনে হয় যুদ্ধ করে এসে সেরা জামা ঘর্মাক্ত শরীরে টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে উর্ধ্বতনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা তার কর্মদক্ষতা দেখানোর জন্যই। এ দৃশ্য দেখা গেছে বিগত ফেসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়ে রমনা মতিযোগ বিভাগের পুলিশের ডিসি এডিসিদের কর্মকান্ডে। বিপ্লব সরকার হারুন অর রশিদ, মেহেদী, মনিরুল এদেরকে প্রতিদিনই দেখা যেত টেলিভিশনের পর্দায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে।একই জিনিস বর্তমানেও পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। পুলিশের রমনা তেজগাঁও ও গুলশান বিভাগে কর্মরত ২৮ ব্যাচের উপ-পুলিশ কমিশনারদের বিষয়ে অতি উৎসাহে কর্মকান্ডের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর পুলিশের প্রথম নিয়োগ হয় ২৮ ব্যাচ। দীর্ঘদিন পুঙ্খানুভাবে বাছাইয়ের পর ২৮ বিচের কর্মকর্তাদের দলীয় এ পজেটিভ বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ সালের শেষে।
আরও পড়ুন: জননিরাপত্তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ডিআইজি প্রশাসন থাকা অবস্থায় তাদের ব্যাটিং ও নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এরমধ্যে কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। উঠেছে রমনা তেজগাঁও ও গুলশান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ পুলিশ কমিশনাররা বিগত আমলে বঞ্চিত ছিলেন কিনা। রমনাথ ডিসি মাসুদ ৫ আগস্ট পরবর্তী পদায়ন ছিল পাবনার মতো বড় জেলার পুলিশের দ্বিতীয় কর্মকর্তা আলফা টু হিসেবে। পদোন্নতি পান্ধতা সময়ে , পোস্টিং ছিল সব সময় লোভনীয় পথে। ছাত্র আন্দোলন ভ্রমণের পাবনায় ছিলেন সব সময় ছাত্রদের মুখোমুখি। গুলশানের উপ পুলিশ কমিশনার তারেক আহমেদ ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে। নতুন নতুন পানযথা সময়ে। অভিযাত এলাকায় চাঁদাবাজি আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায়ী করা হয় তাকে। ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধীদের সাথে মিশে যাওয়ায় পুলিশের কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। ২৮ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও তদবিরের জুড়ে আবার পুনর্বহাল হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের উপর পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানের বিরুদ্ধে আছে কই অভিযোগ।
গাইবান্ধার বিএনপি'র অফিস ভাঙচুর ও ছাত্র জনতার উপর নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট ভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ আনলেও আমলে না নিয়ে তাকে দেয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং। একই অবস্থা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কে কোথায় কি খেলছে নিবিড়ভাবে কোন তদারকি নেই। পুলিশের এই সব রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও কোন পরিবর্তন নেই। সর্বশেষ আলোচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সে ছবিতে দেখা যায় এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন একজন পুলিশ সদস্য। জানা গেছে ঐ শিক্ষার্থীর নাম রাফিদ জামান খান। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থী। পড়েন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষে।
আরও পড়ুন: যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ৯১ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী গ্রেফতার
রাফিদ জামান খান বলেন, পেছন থেকে একজন পুলিশ তার মুখ চেপে ধরে মাটিয়ে ফেলে দেন। ঘটনার পরে ভিডিও দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, যিনি ফেলে দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন ডিসি মাসুদ আলম। মাটিতে ফেলার পরে আমাকে আসলে খুবই আনপ্রফেশনালভাবে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আমাকে তারা বুট দিয়ে লাথি মেরেছে। পিটাইছে। এমনকি একজন সদস্য হেলমেট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করছেন।’
তার আগে, গত বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামান ছোড়ে পুলিশ। পরে লাঠিচার্জও করে। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম একজন শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন—এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছবি ও খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
তবে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলমকে নিয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এক ছাত্রের মুখ চেপে ধরার একটি ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এটি ডিএমপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কে বা কারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে উক্ত ছবিটি তৈরি করে জনমনে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। ছবিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যায়, তা সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এবং বাস্তবতা বিবর্জিত।
তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলছে, ডিসি মাসুদ আলমের আন্দোলনকারীর মুখ চেপে ধরার ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয়। প্রকৃতপক্ষে আসল ছবিকেই এআই দিয়ে তৈরি বলে প্রচার করেছে ডিএমপি।
তথ্য যাচাইকারী বা ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলছে বুয়েট শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার ছবিটি এআই দিয়ে বানানো নয়।
রাফিদ দাবি করেন, ছবিটিতে যে শিক্ষার্থীকে দেখা যাচ্ছে সেটি তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই এআই জেনারেটেড না।’
ঘটনার দিন যখন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছান, তখন আর সামনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান রাফিদ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তিতে জড়াব না। এ জন্য সড়কে বসে পড়ি। যেন পুলিশের কাছে মনে না হয় যে আমরা অ্যাটাকিং পজিশনে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাসের শেল) নিক্ষেপ করে। আমি যেখানে ছিলাম তার কিছুটা পেছনে টিয়ারশেলটা পড়ে। এরপরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করা শুরু করে। টিয়ারশেল পড়ার পর আন্দোলনকারী অনেকে পিছু হটে। আর সামনে থাকারা আটকে পড়ে যায়। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।’
রাফিদ আরও বলেন, ‘ওই অবস্থায় আসলে আমি ওখানে আটকা পড়ে গিয়েছিলাম। আমি একটু ডিসওরিয়েন্টেড হয়ে পড়ছিলাম। তো তারপরে দেখি যে আমাকে একটানা মারা হচ্ছে। আমার পেছন থেকে মারতেছে।’
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গত বুধবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল সমাবেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় এবং নুরুল হক নরকে গুরুত্ব আহত করায় সরকারের ভিতরেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশের হঠাৎ কেন এই আচরণ। এর আগেও গণধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা এবং বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আগস্ট পরবর্তী পুলিশের ডিলে ডালা কার্যক্রমে ও দাবি আদায়ের আন্দোলন ঘিরে অস্থির হয়ে ওঠে রমনা বিভাগ। হাইকোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচিবালয় প্রেসক্লাব , ৩২ নম্বর বাড়ি, মন্ত্রী পাড়া সর্বোপরি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘিরে প্রায় প্রতিদিন চলে বিক্ষোভ সমাবেশ। ঢাকার পুলিশের মূল ভূমিকায় পালন করতে হয় রমনা ডিভিশনের মধ্যেই। রমনা নিয়মিত পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী বিজিবি ডিবি , রেব ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এর বিপুলসংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে সেখানে। কিন্তু সঠিক পুলিসিং ও কৌশলের কারণে পরিস্থিতি বমেরাং হয়ে ওঠে।
কয়েকদিন আগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কয়েকটি ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করা হয়। উনার উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ থেকে আটক রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে কীসের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে কোন অসঙ্গতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। দায়েরকৃত মামলায় জনাব আজিজুর রহমানের সম্পৃক্ততা তদন্ত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি সংশোধিত সিআরপিসির ১৭৩(এ) ধারা মোতাবেক অতিসত্বর প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন পুলিশ পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে থাকলে দায়িত্ব পালনে সহজ হয়। পুলিশের দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের বিকল্প নেই। অতীতে অতি উৎসাহী ও দলবাজ দের কারণে পুলিশকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এখনতো আর দলীয় সরকার নেই। অভ্যুত্থান পরবর্তী মানুষের আকাঙ্ক্ষা দাবি দাওয়া আন্দোলন পরিস্থিত কে বিভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সবাইকে একত্রে পুলিশকে সহায়তা করা উচিত।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও পুলিশের ব্যাকিকেড সরিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে সমাবেশ করেছিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে যমুনার সামনে এর আগে অবস্থান নিয়েছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার সমর্থকরা।
তবে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভিন্ন চেহারা পুলিশের। এর আগে ঢাকায় ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও পুলিশকে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়ছে পুলিশ। রাষ্ট্রীয় এই বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
প্রশ্ন উঠছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের থামাতে আর কী করতে পারতো পুলিশ?
আর সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও অতীতে যে কর্মসূচিগুলো ওই এলাকায় হয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল- এ প্রসঙ্গও সামনে আনছেন কেউ কেউ। এছাড়া সম্প্রতি পুলিশের সামনেই ছিনতাই ও মব তৈরি করে হামলার ঘটনায়ও অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের নিরব ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ব্যবস্থা নিলে অনেক সময় পক্ষপাত বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে, আবার ব্যবস্থা না নিলে আনা হয় গাফিলতির অভিযোগ। ফলে পুলিশি পদক্ষেপ যেভাবেই হোক, সমালোচনা এড়ানো প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
যদিও পুলিশের জন্য এটা নতুন কিছু নয় বলেই মনে করেন সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা। তিনি বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুলিশের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। বছর পেরোলেও সেই অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি বলেই মনে করেন অনেকে।
আবার এই সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ নিজেও বাঁধার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পুলিশের সামনেই উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলার শিকার কিংবা ছিনতাইয়ের অনেক ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি।
গত জুলাই মাসে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশের সামনেই অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। এছাড়া মোহাম্মদপুরে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়।
এর আগেও ধানমন্ডি ও শাহবাগে পুলিশের সামনেই মব তৈরি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার হয়েছে খোদ পুলিশও।
অতীতেও এমন দ্বিমুখী আচরণের কারণে সমালোচিত হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা। তবে সম্প্রতি এই পরিস্থিতি অনেক বেশি বেড়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।
বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যেতে বাঁধা দেয়ার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
এদিকে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি এখনো।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। যার ফলে ব্যাপক জনরোষের শিকারও হয়েছিল পুলিশ সদস্যরা। ওই সময় দেশের অধিকাংশ থানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছিল।
তবে এমন পরিস্থিতির দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলছেন, "পুলিশকে প্রেপারলি ব্যবহার করার জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার আগে বন্ধ করতে হবে। আগের সরকারগুলো পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়েছে বলেই মনে করেন মি. মোরশেদ।