দুই কর্মসূচিতে রাজধানীতে তীব্র যানজট, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

Shakil
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২২ | আপডেট: ১:৩৪ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২২
অসহনীয় গরম ও তীব্র যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা
অসহনীয় গরম ও তীব্র যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা

অসহনীয় গরম ও তীব্র যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীতে দেখা দেয় তীব্র যানজট। তীব্র গরম-যানজটে হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুর ১০ থেকে ফার্মগেট, উত্তরা থেকে খিলক্ষেত, বনানী হয়ে বাংলামোটর। উল্টো দিকে জাহাঙ্গীর গেট থেকে বনানী পর্যন্ত। গাড়ির চাপে রাস্তায় কোনো ফাঁকা জায়গা ছিল না। ছড়িয়ে পড়েছে যানজট।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে ঢাকা কলেজ সাইন্সল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এতে নয়াপল্টনের ভিআইপি রোডের এক পাশে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ির বেশ চাপ দেখা যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি আইজিপির

এতে অধিকাংশ সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের যানজটের। জরুরি প্রয়োজনে যারা বাইরে বের হয়েছিলেন কেউ কেউ যানজটে হেটেই গন্তব্যে পৌছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। বিজয় স্মরণী মোড়ে শিকড় পরিবহনের যাত্রী আফাজ উদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘মিরপুর ১০ থেকে বাসে উঠেছি। ঢাকা মেডিকেলে যাব। ওখানে বোন ভর্তি। আমি খাবার নিয়ে যাচ্ছি। আজ এতো যানজট বুঝতে পারছি না কেনো।’ 

ধানমন্ডি সড়কে চলাচল করা কয়েকজন হেলপার-চালকের জানায়, বৃহস্পতিবার সাধারণত সড়কে একটু যানজট থাকে। তবে আজ এতো বেশি কেনো সেটা বুঝতে পারছি না। দুপুরের পর যানজট বাড়বে বলেও ধারণা তাদের। ফার্মগেট থেকে সেগুনবাগিচা এলাকায় যাচ্ছিলেন আরিফুল ইসলাম। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরেও এইটুকু পথ পার করতে পারেননি তিনি। জানতে চাইলে এই যাত্রী বলেন, সড়কে তীব্র যানজট। বাস চলছে না। খুব বিপদে পড়েছি।

আরও পড়ুন: রমজানে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন

ঢাবির দোয়েল চত্বর থেকে পুরানা পল্টন যেতে রিকশায় উঠেছিলেন সজিব হোসেন। তিনি বলেন, হাঁটার চাইতেও কম গতিতে চলছে রিকশা। এখনো যেতে পারলাম না। এরকম সভা সমাবেশের নামে সড়ক বন্ধ করাটা হয়রানি। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।

মৌচাক এলাকা থেকে দৈনিক বাংলা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন দিদারুল আলম। প্রায় ২ ঘণ্টাতে তিনিও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি সূত্র জানায়,  শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। রাজধানীতে চলা এই দুই কর্মসূচির একটিতেও নেওয়া হয়নি অনুমতি। 

শাহবাগ মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কুদ্দুস মিয়া সময়ের আলোকে বলেন, আজ সকাল থেকেই একটু বেশি যানজট। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগ এরিয়াতে কোনো যানজট যাতে না হয় সেজন্য আমরা সড়কে আছি। যানজট বিকালের ভেতরে কমে যাবে বলেও জানান তিনি।