প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন প্রশাসক।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং গাজীপুরের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
আরও পড়ুন: জিডির ভিত্তিতে ৫০ মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের বুঝিয়ে দিল পল্টন থানা
সাক্ষাতের পর ঢাকার দুই মেয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
‘দক্ষিণ সিটি: টাকা নেই, থোক বরাদ্দ চেয়েছি’
আরও পড়ুন: দখলমুক্ত হলো জসিমউদ্দীন–পাকার মাথা ফুটপাত: স্বস্তি ফিরল পথচারীদের মাঝে
ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “গত কয়েক মাসে যেভাবে রাজস্ব খাত থেকে কালেকশন আসার কথা, সেভাবে আসেনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কম হয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে অর্থসংকটে পড়েছি। আমরা বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি।”
“আমরা তাঁর কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছি, যাতে সিটি করপোরেশন চালানো যায়। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়—লোকাল গভর্নমেন্ট মন্ত্রণালয়—তাদেরও যেন তিনি বলেন, যাতে বিভিন্ন প্রকল্প ও কাজে আমাদের সহযোগিতা করা হয়।”
তিনি বলেন, “ঢালাওভাবে তারা (বিগত প্রশাসক) যে সমস্ত ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে কাজ করলে সিটি করপোরেশন কলাপস করবে। কোনোভাবেই সেটা করা যাবে না।”
‘উত্তর সিটি: এখন ভঙ্গুর অবস্থায়’
উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন করপোরেশনের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “করপোরেশন এখন ভঙ্গুর অবস্থায়। ফান্ড নেই, অথচ ১,৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সাবেক প্রশাসক ১০ তারিখে শেষ অফিস করে ৩৪টি ফাইল সই করে গেছেন, যেখানে বিল দিতে হবে। আসলে কোনো টাকাই নেই।”
“২৫ কোটি টাকা আছে। রাজস্ব শাখা থেকে আমি যেটা জানতে পেরেছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতি মাসে বেতন বাবদ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা। ১৩ কোটি টাকা থেকে থাকবে ১২ কোটি… বিচার-বিশ্লেষণ আপনারাই করবেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিভাবে করব?”
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমরা হতাশ নই। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব। জনকল্যাণে যতটুকু সেবা দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা তা দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করব এবং জনকল্যাণে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে, সেটাকে আমরা বাস্তবায়ন করব।”
‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা’
দক্ষিণের প্রশাসক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাটা একটাই—পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজায়ন ঢাকা এবং মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা—এই তিনটি বিষয়ের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।”
“সামনে যেহেতু বর্ষা আসছে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে, এই কারণে মশাকে যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর ঢাকাকে পরিষ্কার করতে হবে… ঢাকা শহর যে একটি বর্জ্যের কারখানায় পরিণত হয়েছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সবাই মিলে চেষ্টা করছি, যাতে অতি দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি সুন্দর ব্যবস্থায় আনা যায়।”
“মশক নিধনে ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি। আমি ঢাকা দক্ষিণে এক মাসের জন্য একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করেছি।”





