ফেব্রুয়ারিতে দুদকের জালে ১৪০ কোটি টাকার সম্পদ
#২৯ আদালত আদেশে স্থাবর-অস্থাবর জব্দ ও অবরুদ্ধ
# ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাট, ভবনসহ বিস্তৃত সম্পদের তালিকা
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ১
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন অনুসন্ধান ও মামলার প্রেক্ষিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ১৪০ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। আদালতের একাধিক আদেশের মাধ্যমে জব্দ করা এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে জমি, ফ্ল্যাট, ভবন থেকে শুরু করে ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক বিনিয়োগ—যা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সংস্থাটির সক্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালত ও দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ২৯টি আদালতের আদেশের মাধ্যমে এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া গেজেট, ড. আরিফ চৌধুরী গ্রেপ্তার
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, চলমান অনুসন্ধান ও মামলার অগ্রগতির ভিত্তিতে এই সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের পরিসরকে সামনে নিয়ে আসে।
ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮৯৯ একর জমি, ১৫টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, ২টি টিনশেড ঘর, ১টি খেলার মাঠ, ১টি স্কুল, ২টি দোকান এবং ৬টি গাড়ি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সম্পদের ভৌত পরিমাণই ইঙ্গিত দেয় দুর্নীতির বিস্তৃতি কতটা গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, ১৫টি আদালতের আদেশে অস্থাবর সম্পদও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি ব্যাংক হিসাব, যেখানে জমা আছে ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ টাকা। এছাড়া ৫ কোটি ২৮ লাখ ১৭ হাজার ২২২ টাকার বিভিন্ন বিনিয়োগ, ১৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১ কোটি ৫২ লাখ ২৪ হাজার টাকার পে-অর্ডার, ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার এফডিআর, ৫০ লাখ টাকার শেয়ার এবং ৯৩ লাখ ১৬ হাজার টাকার বিও হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, জব্দ ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কমিশনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশে ও বিদেশে দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, সরকারি অর্থ লোপাটকারী এবং ঋণখেলাপিসহ সাড়ে ৩০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করে রেকর্ড গড়ে দুদক। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ৩৬১ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে সম্পদ জব্দের এই প্রবণতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে, তবে এর টেকসই প্রভাব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া ও জব্দকৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা।





