আধিপত্যের দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ড
শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় জড়িত আসামিরা শনাক্ত, যেকোনো সময় গ্রেফতার
পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) হত্যায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। মূলত এলাকায় আধিপত্য ও হাটের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, টিটন নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহারে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার গরুর হাট নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং পিচ্চি হেলাল, কাইল্লা বাদলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “মামলা হয়েছে। বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের গ্রেফতারে আমরা কাজ করছি। আধিপত্য বিস্তার ও কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: নির্মাণ ব্যবসার আড়ালে টেন্ডার রাজত্ব: কে এই ক্ষমতাধর লবিস্ট জামাল উদ্দিন?
হাট ইজারা নিয়ে সম্ভাব্য সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে হাটকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতেও এমন ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলে চিঠি পাঠানো হবে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, টিটনকে গুলি করেছেন একজন এবং তার সঙ্গে আরেকজন সহযোগী ছিলেন। তারা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন। দুজনের মুখেই মাস্ক ছিল। যিনি গুলি করেন, তার মাথায় ক্যাপ এবং পরনে সাদা শার্ট ছিল। গুলি করার পর তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। টিটনের কপাল, মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছয়টি গুলি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলা এলাকায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। খুব কাছ থেকে গুলি করা হলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
নিহত টিটনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, টিটন তাদের অন্যতম ছিলেন।





