প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছাড়ব, তবু সংখ্যালঘু নির্যাতন মেনে নেব না: ধর্মমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:১২ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছাড়তেও প্রস্তুত আছেন, তবুও অন্যায় ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে আপস করবেন না।

সোমবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো গোষ্ঠীকে ভয়ভীতি, হামলা বা বৈষম্যের মুখে পড়তে হলে তা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের গণতান্ত্রিক চর্চাকে সম্মান করে। তবে গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার ওপর।

আরও পড়ুন: এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

তিনি বলেন, “আমি ভারতকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আরও বেশি শ্রদ্ধা করব তখনই, যখন তারা সংখ্যালঘুদের আপন নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রতিবেশী কোনো দেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু বা অন্য ধর্মাবলম্বীর ওপর জুলুম-নির্যাতন সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।”

তিনি আরও বলেন, সরকার সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা উসকানির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।

সংলাপে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধ নিয়েও কথা বলেন তিনি। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইসলাম বিভক্তি নয়, বরং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ ও বিভাজন দীর্ঘায়িত হওয়া কাম্য নয়।

তিনি বলেন, সরকার চায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাক এবং আগের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হোক। তবে কাউকে চাপ প্রয়োগ করে একমত করানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্মমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সদিচ্ছার মাধ্যমে তাবলিগ জামাতের বিরোধ নিরসন হবে এবং দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।