হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি
হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতিকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, মার্কিন বাহিনী প্রথমে তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার দাবি
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, জাস্ক বন্দরের কাছে হামলার ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছোড়া হয়।
আরও পড়ুন: বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা, হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে হত্যার দাবি
তারা দাবি করেছে, হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওমান উপসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তারা ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব ও সিরিক অঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নতুন এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে নিজেদের বাহিনী রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইরান এই ঘটনাকে ‘মার্কিন আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।





