চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের উত্থান যেভাবে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৯ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের অপরাধজগতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দ্রুত সংগঠিত অপরাধচক্রে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান (বড় সাজ্জাদ) গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি এবং হামলার অভিযোগের পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাসে চট্টগ্রামের অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করে প্রায় দেড় কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। সর্বশেষ একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় সোমবার নগরের চন্দনপুরা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ৯ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং মামলায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস গ্রেফতার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে ডেভিড ইমন তেমন পরিচিত ছিলেন না। পরে তিনি সাজ্জাদ আলী খানের গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। তিনি কৃষক পরিবারের সন্তান।

অভিযোগ রয়েছে, অল্প বয়সেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ডেভিড ইমন। পরে সাজ্জাদ আলী খানের গ্রুপে যোগ দিয়ে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। বর্তমানে তিনি ওই গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।

আরও পড়ুন: অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা এবং রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় এ গ্রুপের সক্রিয়তা বেশি। বর্তমানে গ্রুপটির আরেক নেতা মোহাম্মদ রায়হান আলমের সঙ্গে পৃথকভাবে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া হত্যাকাণ্ড, একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সংঘটিত ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।

সোমবার চন্দনপুরার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসি মোড় এলাকার আরেকটি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছেও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘নেট প্লাস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ অভিযোগ করেন, নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ফোনে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত একাধিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রামে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)-এর চট্টগ্রাম বিভাগ।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার বলেন, ডিডিএন প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি এবং হামলার ঘটনা বাড়ছে, যা পুরো খাতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইএসপি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।