আজ মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-অবরোধ

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৪ অপরাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

* সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ

* শিক্ষার্থীদের অবরোধে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই রায় কার্যকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার  রাজশাহী, বগুড়া, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও নওগাঁয় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিন দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিসমূহ হলোÑ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি। দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত, যারা সোমবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করায় ক্ষমা না চাইলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আজ বুধবার মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ৩টার দিকে উত্তরার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া। এ সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা রাতের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন। পরে বুধবার মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সড়ক থেকে সড়ে যান তারা। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এর আগে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন। এরপর তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে যান এবং সেখান থেকে ফিরে আবারও সায়েন্সল্যাবে অবস্থান নেন। এতে করে সায়েন্সল্যাব মোড়ের দুই পাশেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে তারা টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান। ভিসি চত্বরের সামনে বেলা সোয়া ২টার দিকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এরপরই শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। বিকেলে আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘তুমি কে, আমি কেÑফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছেÑশিক্ষামন্ত্রী’, ‘দফা এক, দাবি একÑশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘আপস না, সংগ্রামÑসংগ্রাম, সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। ঘণ্টা খানেক অবরোধের পর সংসদ ভবনের দিকে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মানিক মিয়া এভিনিউতে  তাদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুলিশ ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সকাল থেকে সারা দিন ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন এই শিক্ষার্থীরা। জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলার মধ্যে সংসদের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন তারা। প্রথমে পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদেরকে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদগেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সড়ক অবরোধে মঙ্গলবার দিনভর কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। সন্ধ্যায়ও উত্তরা, ইসিবি চত্বর ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এর প্রভাব দেখা গেছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বন্ধ রয়েছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। সকাল ১১টার দিকে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এরপরও বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তারা শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা একটা স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের যে দাবি স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব, সেগুলো পূরণের ব্যাপারে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু যে দাবি স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

বগুড়ায় ব্লকেড: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টায় তারা নগরের সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি সাতমাথা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বগুড়ার মতো মহানগরে জলজট তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। উল্টো গতকালের পরীক্ষায় সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে এবং শিক্ষাসচিবকেও অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বেলা ১টা থেকে আবার সাতমাথা এলাকা ‘ব্লকেড’ করে বিক্ষোভ করেন। বেলা ৩টার দিকে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম (স্বাধীন) ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদারের নেতৃত্ব বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তারা নগরে ভবনে যান। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ফিরে আবার সাতমাথায় অবস্থান নেন।

চট্টগ্রাম: ৭ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে নগরের ষোলশহরে অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের সামনে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এরপর তারা সড়ক অবরোধ করেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জহিরুল হক স্বপন বলেন, শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে একটি আবেদন দিয়েছে। আমরা সেটি গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। বিকেল ৪টায় আবারও শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হয়েছে তারা। তাদের দাবি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত না আসলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ যুক্ত হতে পারে বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন আছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অছাত্র বা সুযোগ সন্ধানীরা যুক্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসি জাহিদ বলেন, আমাদের নজরে এমন কিছু আসেনি। আমরা সতর্ক আছি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ: টাঙ্গাইলে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বেলা দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগর জলপাই এলাকায় গিয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত তারা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া ও পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কের শহর বাইপাসের নগর জলপাই এলাকায় গিয়ে অবরোধ করে। এতে যমুনা সেতুগামী লেনে যান চলাচল সোয়া এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। বেলা ৩টার দিকে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে, ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।

ময়মনসিংহে মহাসড়ক অবরোধ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে ময়মনসিংহে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নগরের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। বেলা আড়াইটায় তারা মহাসড়ক ছেড়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে এক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর তারা কর্মসূচি শেষ করেন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতির যাতে কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল সোয়া ১১টার দিকে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরাÑ ‘তুমি কে আমি কে, মুরগি মুরগি, কে বলেছে কে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী’, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে কান্দিরপাড় থেকে মিছিল নিয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে গিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। 

সিলেটে অবস্থান কর্মসূচি: সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘সিলেটের সার্বজনীন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বেলা ২টার দিকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। শিক্ষামন্ত্রী যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজারমুখী সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। 

ফরিদপুর: পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত কঠোরতা, বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ৫ দফা দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান। দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পথসভায় বক্তারা বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবার জন্য একইভাবে পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। বর্তমান পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন। একই দিন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসেও একই দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

কুড়িগ্রামে পরীক্ষার্থীদের মানববন্ধন: কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেননি। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও তাদের আপত্তি আছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ীদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা এবং গতকাল পরীক্ষা দিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি জানান তারা।

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ‘সব কলেজের সচেতন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।