ছাত্রদেরকে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত ঢাবি শিক্ষককে দ্রুত শাস্তির দাবি শিক্ষার্থীদের

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ন, ০১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৭ অপরাহ্ন, ০১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিং করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশে অযৌক্তিক বিলম্ব হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক জামিনে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন: কুবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ‘পেনড্রাইভে ভাইরাস’ বা তথ্য মুছে যাওয়ার মতো অজুহাত দেখিয়ে তদন্ত বিলম্বিত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আইয়ুব আলীকে তলব করেন। তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ চলছে। উপাচার্য আগামী ৭ মে অনুষ্ঠেয় সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: এসএসসি উত্তরপত্র পাঠাতে নতুন নির্দেশনা

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, “শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তদন্ত কমিটিগুলোর সময়ক্ষেপণ নতুন নয়। এই ঘটনাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিলম্ব হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।”

ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম বলেন, “সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে গড়িমসি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

জগন্নাথ হল সংসদের জিএস সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, “অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাকে বিভাগে পুনর্বহাল করা যাবে না।”

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী অভীক চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, “তদন্ত চলাকালীনও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত বিলম্বিত করে তাকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে।”

উক্ত কর্মসূচিতে রসায়ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ও বিভিন্ন হল সংসদের একাধিক নেতৃবৃন্দ। শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।