ডাকসু নির্বাচন
প্রচারণায় উৎসবমুখর ক্যাম্পাস, ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে। প্রার্থীরা ব্যানার-পোস্টার টানানো, সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং ইশতেহার প্রচারের মাধ্যমে প্রচারণায় নেমেছেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শহিদ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রচারণা শুরু করে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রচারণা শুরু করে। এছাড়া ছাত্রশিবির, বাগছাস, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডাকসু: জমজমাট প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের
ভিপি পদে লড়ছেন ৪৫ জন
ডাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন লড়ছেন। সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে—এখানে ১৩টি আসনের বিপরীতে ২১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আরও পড়ুন: মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর দাবি
ভিপি পদে ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, মাত্র আটটি ভোটকেন্দ্র দিয়ে ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। ভোটকেন্দ্র বাড়ানো না হলে অনেক শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
একই দাবি তুলেছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের। তিনি মনে করেন, প্রতিটি ভোট দিতে গড়ে পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। এ অবস্থায় সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার ভোট কাস্ট হতে পারে।
তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। প্রথম স্তরে থাকবেন বিএনসিসি সদস্য ও প্রক্টরিয়াল টিম, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ বাহিনী এবং তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশপথে সেনাবাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মোতায়েন থাকবে।
ভোটের আগের দিন (৮ সেপ্টেম্বর) ও ভোটের দিন (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে। এছাড়া নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থী, অনুমোদিত সাংবাদিক ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন বয়কটের হুমকি
এদিকে প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু অভিযোগ করেছেন, প্রচারণার শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা ‘স্ক্যাম’ দেখা যায়, তাহলে তারা নির্বাচন বয়কট করতে বাধ্য হবেন।