ঢাবিতে মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ২.৩৫ লাখ ডলার অনুদান
ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে মুসা খান মসজিদ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের Ambassadors Fund for Cultural Preservation (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায়, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় কার্জন হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদ এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: ৭ জুন শুরু হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা, এবার ১১ বোর্ডেই অভিন্ন প্রশ্নপত্র
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হন।
আরও পড়ুন: প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি স্থাপনসহ কেন্দ্র সচিবদের ১১ দফা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সপ্তদশ শতাব্দীর এই মোগল স্থাপনার সংরক্ষণ উদ্যোগ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মসজিদের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও স্থাপত্যশৈলী পুনরুদ্ধার হবে।
উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগে মার্কিন দূতাবাস ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত। তিনি জানান, প্রকল্পটি একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং বাংলাদেশে এএফসিপির আওতায় এটি ১৩তম প্রকল্প। তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংরক্ষণ কাজের পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্ববিদদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা হবে, যা আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এর আগে, রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শিক্ষা-গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে, তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত জাল নথিপত্রের কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যাচাইযোগ্য সনদপত্র ব্যবস্থা—বিশেষ করে কিউআর কোডভিত্তিক প্রযুক্তি—চালু করলে প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী এবং এ লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।





