গবিতে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

Sanchoy Biswas
মবিনুল ইসলাম রাশা, গবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, ২২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

র‍্যাগিংয়ের দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলামের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায়ে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা আজ শেষ হয়েছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তরিকুল একই বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শের আলীকে র‍্যাগিং এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বহিষ্কৃত হন।

আরও পড়ুন: অব্যবস্থাপনায় নড়বড়ে চবির আলাওল হল: পুরোনো সমস্যার জবাবদিহির চাপে নতুন প্রভোস্ট

পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ৪ এপ্রিল আদালত তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাসে ৫৫% এর কম উপস্থিতি থাকলে কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তাই অনেকের প্রশ্ন, কোন নিয়মের ভিত্তিতে তাকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হলো?

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী বহিষ্কার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু থেকে ক্লাস করতে পারেননি তরিকুল। সুতরাং তার উপস্থিতির বিষয়টি এখানে গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের অনুমতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় তার পরীক্ষা গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন অবস্থানপত্র, ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তরিকুল জানান, আদালতের আদেশের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা দিচ্ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র সংসদের সম্মতিতে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেখানে কীভাবে সে পরীক্ষা দিতে পারে? পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতাই তার নেই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গর্ভধারিণী বোনদের ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় পরীক্ষা দিতে দেয়নি প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ কীভাবে এত বৈষম্য করছে, প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি কর্মকর্তা ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী, চরমপন্থী ও নীতিবহির্ভূত কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী আজীবন বহিষ্কার করতে পারবে। বহিষ্কারের পর শিক্ষাজীবনে প্রভাব না ফেলতে আদালত চূড়ান্ত রায়ের পূর্বে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিয়ে থাকে।

ইউজিসির উপ-পরিচালক নাসিমা আক্তার খাতুন বলেন, আদালতের আদেশ মেনে নিতে হবে। পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, আদালতের আদেশের মাধ্যমেই পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সে শুধু পরীক্ষাই দিতে পারবে। আদালতের রায়ে জয়ী হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে।