বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটে ভাটা: পাঠানো হাজারো ব্যালট, ফেরত মাত্র ৪টি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৩ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ পুনঃতফসিলকৃত সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটগ্রহণে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। হাজারো ব্যালট পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র চারটি ব্যালট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত, যা নির্বাচনী প্রচারণার ঘাটতি ও বাস্তবিক জটিলতাকেই সামনে এনেছে।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) ভোটগ্রহণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ হতাশাজনকভাবে কম দেখা গেছে। গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই দুই আসনের নির্বাচনে বগুড়া-৬ থেকে মাত্র তিনজন এবং শেরপুর-৩ থেকে মাত্র একজন প্রবাসী ভোটারের ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: শেরপুর-৩-এ জামায়াতের ভোট বয়কটের অভিযোগ, দুই আসনেই বিএনপির জয়

নির্বাচন কমিশনের ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি)’ সিস্টেম উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন উদ্যোগের টিম লিড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমেদ খান জানান, বগুড়া-৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তিনটি এবং শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি ব্যালট পেয়েছেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের আগের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই দুই আসনে মোট ২৮ জন প্রবাসী ভোটার ডাকযোগে ভোট প্রদান করেছিলেন। তবে বাস্তবে তাদের মধ্যে মাত্র চারজনের ব্যালট সময়মতো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন: দুই আসনে নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা: সিইসি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সময়মতো ব্যালট পাঠিয়েছিলাম। তবে দুই আসনে নির্বাচনী প্রচারণা কম হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ কম ছিল, যা ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে।”

নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের চিত্র: 

এই দুই আসনে মোট ৭,৩০৯ জন ভোটার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ১,৬৬৪ জন ছিলেন প্রবাসী ভোটার।

বগুড়া-৬ আসন:

এই আসনে ১,২৮১ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২৩ জন ভোট দিলেও মাত্র তিনটি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়।

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ডাকযোগে ভোটের জন্য নিবন্ধিত ২,৪৫৫ জন ভোটারের মধ্যে ১,০৬৫টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমের কাছে জমা পড়ে।

শেরপুর-৩ আসন:

এই আসনে ৩৮৩ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন ভোট প্রদান করেন এবং এর মধ্যে একটি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে পৌঁছায়।

দেশীয় ভোটারদের ক্ষেত্রে ৩,১৯০টি ব্যালট ইস্যু করা হলেও ২,০১৮টি ব্যালট জমা পড়ে।

ডাকযোগে ভোটগ্রহণের সময়সীমা ও বাস্তবতা: 

এই দুই আসনে ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয় ৩০ মার্চ এবং শেষ হয় ৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টায়। যদিও বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকেই পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু রয়েছে, তবে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর অনলাইন পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় প্রেক্ষাপট: 

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন ভোটার নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা, আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এই নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, যা সার্বিক ভোটার উপস্থিতি (৬০ শতাংশ)-এর তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। মোট ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি ছিল প্রবাসীদের এবং ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৮টি ছিল দেশীয় ভোটারদের।

বিশ্লেষণ: 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী ভোটে কম সাড়া পাওয়ার পেছনে সময়মতো ব্যালট ফেরত পাঠানোর জটিলতা, ডাক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং নির্বাচনী প্রচারণার ঘাটতি বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া নতুন চালু হওয়া অনলাইন সহায়তাপ্রাপ্ত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার সঙ্গে অনেক প্রবাসী এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত নন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট বাড়াতে হলে প্রচারণা জোরদার, লজিস্টিক সহায়তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর বিকল্প নেই।