৬ এপ্রিলের বৈঠকে নারী সংরক্ষিত আসনের তফসিলের সিদ্ধান্ত : রহমানেল মাছউদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দেড় মাস অতিক্রান্ত হলেও সংবিধিবদ্ধ সময়সীমার মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্নে এখনো তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাসঙ্গিক আইনের বাধ্যবাধকতা, রাজনৈতিক দলভিত্তিক আসন বণ্টনের হিসাব এবং স্থগিত ফলাফলের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কমিশন আগামী ৬ এপ্রিলের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বুধবার বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানিয়েছেন , ওই বৈঠকেই তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৪৬ দিন পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি ইসি। এতে করে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এ নির্ধারিত সময়সীমা মেনে নির্বাচন সম্পন্নের প্রশ্নে চাপ বাড়ছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের ওপর।
আরও পড়ুন: ঘিরে কড়া নজরদারি: মাঠে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে, ফলাফল প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক নির্বাচিত সদস্যদের পৃথক তালিকা প্রস্তুতের বিধান রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন ফলাফল সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়। সেই হিসেবে নির্ধারিত সময়সীমার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি, সাতদিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক আসন বণ্টনের শতাংশ নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “এই হিসাবের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট ও মোর্চার বিষয়টি সম্পৃক্ত। আমরা সে অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।”
আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত সাধারণ আসনের সংখ্যার ভিত্তিতে আনুপাতিক হিসাবে বন্টন করা হয় । বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হলেই তফসিল ঘোষণা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক সমীকরণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিএনপির সঙ্গে জুনায়েদ সাকি ও আন্দালিব রহমান পার্থের জোটগত অবস্থান এবং জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমন্বয় হচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনে। —এই বিষয়গুলো আসন বণ্টনের হিসাবকে জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কোনো জোটে না থাকার ঘোষণা দেওয়ায় তার অবস্থানও পৃথকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, সেটিও পর্যালোচনা করছে কমিশন।
ইসি সচিব আরও জানিয়েছেন, “সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন, বগুড়া-৬ উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
এই প্রেক্ষাপটে ৬ এপ্রিলের নির্বাচন কমিশনের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “৬ এপ্রিল আমরা কমিশন সভা করব। ওই দিনই সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “পার্লামেন্ট থেকে দলভিত্তিক হিসাব ইতোমধ্যে কমিশনে এসেছে। তফসিল ঘোষণা করা হলে রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।”
উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল যে রমজান মাসের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে তা সম্ভব না হওয়ায় কমিশনের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষার চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।





