ফেনীতে সিজারিয়ান প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা; তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ
ফেনী জেলা-তে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় লিজা আক্তার (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট একটি ক্লিনিক সিলগালা করেছে প্রশাসন এবং বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) ফেনী সদর উপজেলা-র ফাজিলপুর এলাকায় অবস্থিত ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকে লিজা আক্তারকে প্রসবের জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
নিহতের স্বজনদের দাবি, অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তারা আরও অভিযোগ করেন, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার না করে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
পরিবারের ভাষ্যমতে, পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে লাইসেন্সহীন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, হাতেনাতে আটক ব্যবসায়ী
স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, গুরুতর অবস্থার মধ্যেও চিকিৎসা চলাকালে বিল পরিশোধে চাপ দেওয়া হয় এবং সময়মতো রেফার না করায় গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সিভিল সার্জন ডা. মো. রুবাইয়াত বিন করিম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে সেখানে কোনো চিকিৎসক, নার্স বা কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্লিনিকে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের স্থানান্তর করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





