ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়ক
উঁচুনিচু সড়কে প্রতিদিনই মৃত্যুঝুঁকি, দ্রুত সংস্কারের দাবি
দৌলতদিয়া ঘাট থেকে কুষ্টিয়া হয়ে রাজবাড়ী-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এখন চরম ভোগান্তি। পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই সড়কের পিচ দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সড়ক ঢেউ খেলানো হয়ে পড়েছে, ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো আরও গভীর হয়ে পড়ে, আর তীব্র গরমে পিচ উঠে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। রাজবাড়ী জেলায় চলমান তাপদাহের কারণে মহাসড়কের অনেক স্থানে পিচ গলে উঠে যাচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ২০০
সম্প্রতি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাসে এই সড়কে অন্তত ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে বাস্তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে ফের খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সড়কের অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে সড়ক ঢেউ খেলানো অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পণ্যবাহী ট্রাকচালক সমীর মোল্লা বলেন, “এই সড়কে গাড়ি চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গর্তের কারণে গাড়ি উল্টে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। খুব সাবধানে চালাতে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুজন জানান, “গর্তের কারণে প্রায়ই বাস দুর্ঘটনায় পড়ে। সময়ও দ্বিগুণ লাগছে। অন্তত ১০টি স্থানে সড়কের পিচ দেবে গেছে।”
আরেকজন চালকের অভিযোগ, ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কের এমন অবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে ঠিক করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “গাড়ি ফেরিতে উঠতে গিয়ে আটকে গেলে টেনে তুলতে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। দ্রুত এই সড়ক সংস্কার জরুরি।”
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি তরমুজবোঝাই কাভার্ড ভ্যানের চালক জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক সময় ওভারলোড গাড়ি চালাতে হয়। কিন্তু বর্তমান সড়ক পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমারেশ বিশ্বাস বলেন, সড়ক নির্মাণে নির্দিষ্ট নকশা ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ওভারলোড যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে দেবে যাচ্ছে। তিনি জানান, ওভারলোড যানবাহন নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর সংস্কার ও নজরদারি নিশ্চিত না করলে এই মহাসড়ক আরও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





