পরাজয়ের সমীকরণ জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের দুই মনোনয়ন

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৮ অপরাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই অনুমেয়—তারপরও নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ায়নি বিরোধী জোট। বরং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিপরীতে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। শুধু তাই নয়, একই প্রার্থীর নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকার বার্তাও দিয়েছে বিরোধী জোট। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতা, অন্যদিকে তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার গণতান্ত্রিক বার্তা ও মনোনয়নপত্রের আইনগত বৈধতা—দুই বিষয়ই সামনে এসেছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি এবং অলি আহমদ বীর বিক্রমের নামে দুটি। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে আপাতত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুজন। তবে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কার প্রার্থিতা আইনগতভাবে বহাল থাকছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি মনোনয়নপত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অলি আহমদ বীর বিক্রমের দুটি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি। আপাতত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাইয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত, আলোচনায় ৩ নাম

ফলাফলের সমীকরণ স্পষ্ট, তবু মাঠে অলি: 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে নয়; সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১০ ধারায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট এবং প্রকাশ্য ভোটের বিধান রয়েছে।

ফলে বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই রাজনৈতিকভাবে প্রবল। সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই বাস্তবতা বিরোধী প্রার্থী অলি আহমদের জন্য নির্বাচনী লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে।

তারপরও অলি আহমদের প্রার্থিতা জমা দেওয়াকে শুধু জয়-পরাজয়ের অঙ্কে দেখছে না তাঁর জোট। বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একটি বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগকে সামনে রাখার রাজনৈতিক বার্তাই তারা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে শেষ পর্যন্ত ভোট হলে অলি আহমদ কত ভোট পান, সেটিই হয়ে উঠতে পারে বিরোধী জোটের সংসদীয় শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানের একটি দৃশ্যমান সূচক।

অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়ন কেন?

অলি আহমদের পক্ষে প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে। এতে প্রস্তাবক হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন স্বাক্ষর করেছেন।

এরপর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অলি আহমদের পক্ষে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে কর্নেল এম এ বাতেন এবং সমর্থক হিসেবে ডা. মাহমুদা মিতুর নাম রয়েছে।

দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দুই মনোনয়নপত্রেই একই প্রার্থী—কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম। তাঁদের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন সেটিও গ্রহণ করেছে।

বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁদের সন্দেহের বিন্দুমাত্র কারণ নেই। আগে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাঁরা দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র দিয়েছেন।

আইনে কী আছে?

অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে—একই প্রার্থীর নামে একাধিক মনোনয়নপত্রের আইনগত অবস্থান কী?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত দিন ও সময়ে একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনীত করে নির্বাচনী কর্তার কাছে একটি মনোনয়নপত্র দিতে পারবেন। ওই মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও অন্য একজন সংসদ সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে এবং প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষরিত বিবৃতিও থাকতে হবে। একই প্রস্তাবক বা সমর্থক একটির বেশি মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে পারবেন না।

এই বিধানের আলোকে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলেই অলি আহমদকে দুই প্রার্থী হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। প্রার্থী একজনই।

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী প্রথম মনোনয়নপত্রটি বৈধ হয়ে গেলে দ্বিতীয়টির যাচাইয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। কেন দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে—সে ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্টরাই দিতে পারবেন।

ফখরুলের এক মনোনয়নেই আস্থা বিএনপির: 

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্রই জমা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বাক্ষর করেছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, হুইপ আশরাফ উদ্দীন নিজান, মিয়া নুরুদ্দীন অপু, রকিবুল ইসলামসহ অন্য নেতারা।

১৬ আগস্টেই নির্ধারিত হবে আইনি চিত্র

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৭ ধারায় নির্বাচনী কর্তার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র পরীক্ষার বিধান রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যদি মাত্র একজনের মনোনয়ন বৈধ থাকে, তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক ব্যক্তির মনোনয়ন বৈধ থাকলে তাঁদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

ফলে ১৬ আগস্টের যাচাই-বাছাই এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ। অলি আহমদের দুটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে কোনটি আইনগতভাবে কার্যকর থাকে, কিংবা কোনো একটি বৈধ হলেই তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও সেদিনের প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।

এখানেই অলি আহমদের দুটি মনোনয়নপত্র ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি কৌতূহল। কারণ, ২০২৩ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একই প্রার্থীর নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে একটি বৈধ হওয়ায় অন্যটির কার্যকারিতা ছিল না বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে ভোট ২০ আগস্ট: 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে। ভোট শেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সমান ভোট হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ অলি আহমদ ও মির্জা ফখরুল—দুজনের মনোনয়ন বৈধ থাকে এবং কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি সংসদীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

‘জয়’ নয়, রাজনৈতিক বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ: 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের প্রার্থিতা নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সংসদে যেখানে ক্ষমতাসীন বিএনপির সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, সেখানে বিরোধী জোট কেন এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের নির্বাচনে ফলাফলের সম্ভাবনা অনেকাংশে আগে থেকেই অনুমেয় হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা নিজেই একটি রাজনৈতিক অবস্থান। বিরোধী জোটের জন্য এটি সংসদে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বিকল্প মত ও প্রার্থিতার উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ।

তবে অলি আহমদের পক্ষ থেকে পরাজয়ের হিসাব মেনে নেওয়ার কোনো বক্তব্য আসেনি। বরং তাঁরা মনোনয়ন যাচাই-বাছাই নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছেন। ফলে ‘পরাজয় জেনেও’—এই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এখনো বিশ্লেষণনির্ভর; এটিকে অলি আহমদের ঘোষিত অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।

ভোট হলে আসল পরীক্ষা সংসদীয় রাজনীতির: 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যদি শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর লড়াই হয়, তাহলে জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি ভোটের ব্যবধানও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। মির্জা ফখরুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সেটি হবে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় শক্তির প্রতিফলন। বিপরীতে অলি আহমদ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেলে তা বিরোধী জোটের সংসদীয় অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে সব হিসাবের আগে এখন আইনের পরীক্ষা। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২০ আগস্ট ভোট—এই তিন ধাপেই নির্ধারিত হবে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে কি না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হবে মনোনয়নপত্রের বৈধতা, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং নির্ধারিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ যতই পরিষ্কার হোক, শেষ কথা বলবে আইন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া।