মাত্র ৩৪ বছর বয়সে চলে গেলেন মডেল সাহারা

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বছরের শুরুতে কন্যাসন্তানের মা হয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ সাহারা রে। মেয়ের নাম রেখেছিলেন স্নো। ইনস্টাগ্রামে তাঁর সর্বশেষ পোস্টেও ছিল আদরের মেয়ের ছবি। সেখানে লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সেই পোস্টের প্রায় তিন মাস পরই থেমে গেল তাঁর জীবন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন সাহারা। ২০১৬ সালে কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন সাহারা। সোমবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড। পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্বজনেরা। তাঁদের ভাষ্য, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। তাঁদের কাছে সাহারা ছিলেন ভীষণ প্রিয় একজন মানুষ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

সাহারার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পরিবার প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ফেন্টানিল নামের শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে পেজ সিক্সেও একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাহারাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রোববার তাঁর পরিবার জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত ছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিল বাংলাদেশের ‘নিশি’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মা হওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন সাহারা। মেয়ের নাম রেখেছিলেন স্নো। সন্তান জন্মের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি ও উদ্বেগের কথা অনুসারীদের জানিয়েছিলেন তিনি। ২৫ জানুয়ারি এক পোস্টে জানান, সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

মা হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে একাধিক ছবি ও আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করে নেন সাহারা। গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে স্নোর কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে মেয়ের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সেটিই ছিল তাঁর ইনস্টাগ্রাম গ্রিডে সর্বশেষ পোস্ট। সাহারার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অনুসারীরা।

জীবনের শেষ কয়েক বছরে নানা শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন সাহারা। ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামের একটি বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সাহারার দাবি ছিল, মদ্যপ এক গাড়িচালক তাঁকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পর একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামের প্রয়োজন হতো। ২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তাঁর অসুস্থতা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সাহারা জানিয়েছিলেন, আকস্মিক এই পরিবর্তনে তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। তারপরও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ছাড়েননি তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল।

শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়েও খোলামেলা ছিলেন সাহারা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ লক্ষ্যে ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন। মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে অতীতে আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক মৃত্যুর কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারা শৈশবের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে। বাবার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সার্ফিং ও সমুদ্রের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালে চালু করেন নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সাহারা রে সুইম’। মডেলিং, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার সুবাদে ধীরে ধীরে পরিচিতি পান তিনি।

২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে এলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসেন সাহারা। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হলেও দুজনের কেউই প্রেমের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।

সাহারার মৃত্যুর পর তাঁর মা গ্রেচেন বাখ ডেইলি মেইলকে বলেন, তাঁর মেয়ে ছিলেন আবেগপ্রবণ, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ও সদয় একজন মানুষ। পরিবার, ফ্যাশন, সার্ফিং আর ছোট্ট মেয়ে স্নোকে ঘিরেই ছিল সাহারার ভালোবাসার জগৎ। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে মেয়েকে নিয়ে নতুন জীবনের শুরুতেই তাঁর এমন চলে যাওয়া স্বজন ও অনুসারীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।