এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানো নিয়ে মুখ খুললেন মেহজাবীন

Sadek Ali
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারকাদের চেহারা বসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর মতে, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করা বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, এ ধরনের ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার করার প্রবণতাও বড় সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন: মেয়ের প্রথম জন্মদিনে অপূর্বর আবেগঘন পোস্ট, প্রকাশ করলেন ছবি

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে এ ধরনের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে ভিডিওগুলো ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মেহজাবীন তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেখানোর জন্য কেন তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্য হতে হবে? এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর জায়গায় নিজের মা বা বোনকে কল্পনা করার প্রচলিত আহ্বানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে—এ জন্য পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ টানার প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: ৩৯ বছর পর ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র পোশাকে অনিল কাপুর

সামাজিক মাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেন, অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। তবে অন্য কাউকে অপমানিত ও অসম্মানিত করে সেই কনটেন্ট থেকে আয় করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মেহজাবীনের মতে, এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্টের সমস্যা শুধু নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনপ্রিয়তা ও এনগেজমেন্ট বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় যে কেউ এমন কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।

তাঁর উদ্বেগ শুধু ভিডিও নির্মাতাদের নিয়েই নয়; যারা এসব ভিডিও জেনেশুনে শেয়ার করেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেন কিংবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাঁদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে মেহজাবীন সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের নিজেদের ভূমিকা ও বিবেক নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, অন্যের অপমান ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কেউ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে বা সচেতনভাবে অপরাধের অংশ হয়ে না পড়েন।