রমজান ও ঈদুল ফিতর কবে, সম্ভাব্য সময় জানাল আরব আমিরাত

Shahrier Islam Pallab
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। একই হিসাবে, আগামী বছরের ঈদুল ফিতর ৯ অথবা ১০ মার্চ উদ্যাপিত হতে পারে। তবে রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর। খবর গালফ নিউজের। আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, শনিবার সূর্যাস্তের পর নতুন চাঁদের জন্ম হবে।

‘আল খালিজ’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে হিজরি ১৪৪৮ সালের জমাদিউল আউয়াল মাস ১২ অক্টোবর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জমাদিউল আউয়াল শুরু হলে রমজান আসতে বাকি থাকবে আরও চারটি চান্দ্র মাস।

আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৬০, প্রাণ গেছে বহু শিশুর

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে ঈদুল ফিতর হতে পারে ৯ বা ১০ মার্চ।

আল জারওয়ান বলেন, ইসলামি চন্দ্রবর্ষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি কিংবা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল হিসাব ছাড়াই চাঁদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে মাসের অগ্রগতি বোঝা যায়।

আরও পড়ুন: জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে ইন্দোনেশিয়ায় সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ মোতায়েন

চাঁদের আকৃতি ও দৃশ্যমান অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে নতুন মাসের প্রথম চাঁদ, অর্ধচন্দ্র ও পূর্ণিমা শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে একসময় অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের এসব পর্যায় পর্যবেক্ষণ করেই চান্দ্র মাসের হিসাব রাখা হয়। ইসলামি বর্ষপঞ্জি মূলত এই চান্দ্র হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি হাব চাঁদ দেখার বিষয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর সূর্যাস্তের পর জমাদিউল আউয়াল মাসের সূচনাকারী চাঁদ খালি চোখে কিংবা প্রচলিত টেলিস্কোপে দেখা যাবে না। তবে উন্নত অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, যেসব দেশ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অথবা হিসাবভিত্তিক পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে, সেসব দেশে ১২ অক্টোবর সোমবার থেকে জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, যেসব দেশে সূর্যাস্তের পর খালি চোখে কিংবা অপটিক্যাল টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা বাধ্যতামূলক, সেসব দেশে মাসটি শুরু হতে পারে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার।

তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এসব পূর্বাভাস সম্ভাব্য তারিখ নির্দেশ করে। রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখার ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।