ইয়েমেনে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৮

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৩ পূর্বাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:১২ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১৪ জন। প্রদেশটির গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে হামলাস্থলে আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৬০, প্রাণ গেছে বহু শিশুর

স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়া চলার সময় শিবিরটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথি বিদ্রোহীরা।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী জানান, তাঁদের বাহিনী ওই প্রশিক্ষণ শিবিরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তাঁর দাবি, শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ফ্রান্সের পরিস্থিতি, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা

শাবওয়া ইয়েমেনের দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় একটি জ্বালানিসমৃদ্ধ প্রদেশ। এডেন উপসাগরের তীরবর্তী এ অঞ্চলে দেশটির বড় শিল্প বিনিয়োগ ‘বালহাফ’ অবস্থিত, যেখানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করা হয়।

গত সেপ্টেম্বরে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের এলাকায় অগ্রসর হওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।

চলতি মাসে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের সেনাবাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে, হুথিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য শহর তাইজ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শহরটি হুথিবিরোধী শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

ইয়েমেনের সংঘাত এখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করলে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের পর সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও দেশটিতে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা দেশটির পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সতর্ক করেছে।