গ্রেফতারি পরোয়ানার পর দশ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে পরীমনি

Any Akter
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩১ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বোট ক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি সাদা গাড়িতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। শুনানি শুরু না হওয়ায় তাঁকে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় কালো পোশাক পরা ১০ জন বডিগার্ড তাঁর গাড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শুনানি শুরু হলে তাঁদের নিরাপত্তায় পরীমনিকে আদালতে নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান মামলার শুনানি শেষে পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: স্পেনে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশী ২ সিনেমা

এদিন মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।

তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করছেন, এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাঁচ বছর পর আবারও সোনারগাঁয়ে ‘ইত্যাদি’

পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমনির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তাঁর দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়।

২০২৫ সালের ২৬ জুন আদালত মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিন পরীমনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন এবং সেখানে মদ পান করেন। পরে তাঁরা বিনা মূল্যে মদের বোতল নিয়ে যেতে চান। এতে রাজি না হওয়ায় ক্লাবে ভাঙচুর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সোয়া ১টার দিকে নাসির উদ্দিন ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাক দেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং একপর্যায়ে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন তাঁর দিকে ছুড়ে মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এতে নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু অমির বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেছিলেন পরীমনি। ওই ঘটনার পর পরীমনির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।