ইরানের শাসন পতন হলে নতুন মধ্যপ্রাচ্য তৈরি হবে: মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান সরকার পতন হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, “যখন এই শাসনের পতন ঘটবে, তখন আমরা একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য দেখতে পাব এবং আমরা বিপুল অর্থ আয় করতে পারব।”
আরও পড়ুন: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে: ট্রাম্প
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের মোট তেলের বড় একটি অংশ ইরান ও ভেনেজুয়েলায় রয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এই তেলসম্পদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। গ্রাহামের ভাষায়, “আমরা এই তেলসম্পদের অংশীদারত্ব পেতে যাচ্ছি। এটি চীনের জন্য দুঃস্বপ্ন এবং এটি একটি ভালো বিনিয়োগ।”
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট—ইরানকে বিভক্ত করে আমাদের তেলসম্পদ অবৈধভাবে দখল করা।”
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের ছায়ায়: আনন্দ, ভয় এবং অনিশ্চয়তার এক সপ্তাহ
সাক্ষাৎকারে সিনেটর গ্রাহাম আরও দাবি করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের-এর হামলা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থা “পতনের পথে” এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে।”
তিনি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর কথাও উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে আর কেউ হুমকি দিতে পারবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি। এই যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে হামলার ন্যায্যতা তুলে ধরেছে। তবে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলছেন, এ ধরনের হামলার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনে সুস্পষ্ট ভিত্তি নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি করেছিল। পরে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে সরে আসে।
মার্কিন রাজনীতিতে লিন্ডসে গ্রাহামকে অন্যতম যুদ্ধপন্থী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ-সহ মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম কিউবা প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, “আমার ক্যাপে লেখা আছে ‘ফ্রি কিউবা’। অপেক্ষা করুন—কিউবার মুক্তি আসন্ন।”





