বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত ৪, লেহ-কারগিলে কারফিউ জারি

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৬ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লাদাখে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ছাত্রসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবারের (২৪ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যার মধ্যে ৩০ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি কার্যালয়েও আগুন লাগানো হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর লাদাখের রাজধানী লেহ এবং কারগিল জেলায় কারফিউ জারি করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।

আরও পড়ুন: আলোচনায় প্রস্তুত, তবে যুদ্ধ চললে ‘জবাব’ দেবে কাবুল

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক-কে ‘সহিংসতা উস্কে দেওয়ার’ অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে। তবে ওয়াংচুক এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বিক্ষোভের আগে অনশন ধর্মঘটে ছিলেন এবং দাবি করেন, তার আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াংচুক "আরব বসন্ত" এবং "নেপালের জেন-জি আন্দোলন" এর মতো তুলনা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। এতে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র

সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি ও বিজেপির কার্যালয়ে আগুন দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়ে মারা যান এবং বহু বিক্ষোভকারী আহত হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, “আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়”, এবং “দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” ২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এবং লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে। এর ফলে লাদাখ তার আধা-স্বায়ত্তশাসন হারায়।

এই পদক্ষেপের পর থেকে বৌদ্ধ অধ্যুষিত লেহ ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কারগিল জেলার জনগণ লাদাখের পূর্ণ রাজ্যত্ব ও স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এতে তারা চাকরি ও জমির উপর স্থানীয়দের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়।লাদাখ বৌদ্ধ সমিতির প্রধান ছেরিং দর্জে লাকরুক বলেছেন, “লাদাখের তরুণ সমাজ সহিংসতা চায় না। কিন্তু তারা গভীরভাবে হতাশ, কারণ সরকার সংলাপ বিলম্ব করছে এবং এই অঞ্চলে বেকারত্ব ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, অনশনরত জনগণের দাবি থাকা সত্ত্বেও সরকার আলোচনার জন্য দীর্ঘ সময় নিচ্ছে, যা তরুণ সমাজকে আরও হতাশ করছে।