বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন মেলিসা’, জ্যামাইকায় আঘাত হানতে পারে
ক্যারিবীয় সাগরে সৃষ্টি হওয়া ‘হারিকেন মেলিসা’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, মেলিসা বর্তমানে ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঝড়, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮২ কিলোমিটার (১৭৫ মাইল) বেগে বয়ে যাচ্ছে।
ঝড়টি ‘বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী বায়ুপ্রবাহ, প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস’ নিয়ে জ্যামাইকার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে এনএইচসি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মঙ্গলবার ভোরে (স্থানীয় সময়) জ্যামাইকার উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল
এরই মধ্যে হাইতি ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে এই ঝড়ের প্রভাবে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এনএইচসি জানিয়েছে, মেলিসার ধীরগতি এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত) প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, ‘জ্যামাইকায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালে প্রাণঘাতী বাতাস, প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।’ বর্তমানে ঝড়টি জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টনের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং ঘণ্টায় মাত্র ৬ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমমুখে অগ্রসর হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর খসড়া চুক্তি, কমেছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম
এনএইচসি’র উপপরিচালক জেমি রোম বলেন, ঝড়টির ধীরগতি ও অতিবৃষ্টি জ্যামাইকার জন্য এক ভয়াবহ দুর্যোগ বয়ে আনতে পারে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী চার দিনে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে দ্বীপটিতে।
জ্যামাইকার সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী কিংস্টনসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পুরো দ্বীপকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডানা মরিস ডিকসন বলেন, “আমরা এর আগে এমন ঝড় দেখিনি। অক্টোবরজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে, মাটি ভেজা। এর মধ্যে এত বৃষ্টি হলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস হবে।
সরকার ৮৮১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দিয়েছে, যা সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস এক্স (আগের টুইটার)-এ লিখেছেন, প্রতিটি জ্যামাইকানকে অনুরোধ করছি — প্রস্তুত থাকুন, ঘরে থাকুন, ও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মানুন। আমরা এই ঝড় পার হব এবং আরও শক্তভাবে ফিরে আসব।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নিম্নাঞ্চলের মানুষকে স্কুলবাসে করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে, এবং যানজট এড়াতে টোল বুথগুলো খোলা রাখা হয়েছে।





