যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করল ইরান
মার্কিন হুমকির প্রেক্ষিতে ইরান বৃহস্পতিবার নিজেদের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটিতে ১৯৭০-এর দশকের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে চলমান সবচেয়ে জটিল অস্থিরতার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পরই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে আংশিকভাবে মার্কিন সেনা ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা: ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন জোরদার, অবস্থানে অনড় যুক্তরাষ্ট্র
ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছে, যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশপথ ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, তাহলে সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের প্রতিরোধমূলক আক্রমণের লক্ষ্য হবে। এ বিষয়ে সৌদি আরব তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের আকাশপথ ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন সৌদিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
অভ্যন্তরীণ সংকটও ক্রমেই গুরুতর রূপ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যা ও মূল্যস্ফীতির কারণে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ইরানের প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে জানিয়েছেন, রাজপথে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা সৌদির
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন চাপের কারণে ইরান আপাতত বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে না। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষও প্রাণ হারাচ্ছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির ঘনিষ্ঠতার কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখন পুরোপুরি বন্ধ। তেহরান জানিয়েছে, ক্রমাগত সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ নেই।
বিশ্বজুড়ে ইরান ইস্যুতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জার্মানির বার্লিনে প্রবাসী ইরানি বিক্ষোভকারীরা সমর্থন প্রদর্শন করেছে, অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সমাবেশ হয়েছে।





