ইরান-হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন ড্রোন হামলায় লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:৩২ অপরাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার রাতে ইসরাইলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ অন্তত ১৫০টি রকেট নিক্ষেপ করে। চলতি মাসে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এটিকে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলা, নিহত বেড়ে ১৫

একই সময়ে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সমন্বিত অভিযানে রূপ দেয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এই আক্রমণের কারণে দেশটির বিশাল এলাকাজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে এবং লাখো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ এই অভিযান শুরু করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

হামলার তীব্রতায় গ্যালিলি, হাইফা এবং সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরের এলাকাগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়। ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কয়েকটি স্থানে আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর ইসরাইলের বি'ইনা শহরে রকেটের আঘাতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। এছাড়া আতঙ্কিত কয়েকজন বাসিন্দাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে।

বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলা বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়া, একর ও হাইফার উপকণ্ঠে ড্রোন অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বারবার সাইরেন বাজানো হয়।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা তেলআবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০–এর সদর দপ্তর ‘গ্লিলট বেস’ লক্ষ্য করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হোশেল হারনিয়েল এলাকায় একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলেও সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে জবাবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রগুদাম ধ্বংস করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈরুত ও আশপাশের এলাকায় ইসরাইলি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহর হামলা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।

হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন শহর এবং বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই রকেট হামলা চালিয়েছে এবং এটিকে নতুন পর্যায়ের অভিযানের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট কমান্ড উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে রকেটের আঘাতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে এবং দমকল কর্মীরা রাতভর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।