‘যুদ্ধবিরতি’র মাঝেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৩

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২১ পূর্বাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া কথিত যুদ্ধবিরতির পর এটিই অন্যতম প্রাণঘাতী দিন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে। খবর আল-জাজিরার

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাবু ক্যাম্পে বিমান হামলায় দুইজন নিহত হন। নিহতদের একজন ফিলিস্তাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রথম সাড়া প্রদানকারী হুসেইন হাসান আল-সুমাইরি বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: তিন কিশোরী বোনের মৃত্যু: উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, গাজা সিটিতে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই একাধিক আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক হামলা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। আকাশে ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা, শিশুসহ নিহত ১০

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের এক রিজার্ভ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর সাঁজোয়া ইউনিট ও যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমারেখা ‘ইয়েলো লাইন’ ঘিরে নিয়মিত অভিযানের সময় ওই ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে গাজার পূর্বাঞ্চলে এই সীমারেখা স্থানান্তরের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭১ হাজার ৮০৩ জনে।

এদিকে বুধবার ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ৫৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গসহ ৬৬টি বাক্স রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে। এসব মরদেহ ও দেহাবশেষ গাজায় চিকিৎসা দলের মাধ্যমে পরীক্ষা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে বাড়তে থাকা হামলার মধ্যে গাজা থেকে অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিদের মিসরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। প্রথমে তৃতীয় দফার রোগী সরিয়ে নেওয়ার সমন্বয় বাতিল করা হলেও পরে তা পুনরায় চালুর খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তাইন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিদের আগে রেড ক্রস হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাফাহ সীমান্ত হয়ে মিসর বা অন্য দেশে নেওয়ার কথা ছিল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট দাবি করেছে, রাফাহ সীমান্তে গাজার বাসিন্দাদের প্রবেশ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রয়োজনীয় সমন্বয় তথ্য জমা দেয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি।

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি সপ্তাহে গাজা-মিসর সীমান্ত আংশিক খুলতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। তবে মানুষের চলাচলে এখনো কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাফাহ সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি রোগী, যার মধ্যে প্রায় ৪৪০ জনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে গাজায় হামলার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পূর্ব পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে অভিযানে ২৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক সাঈদ নাঈল আল-শেখ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।