হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসির সামরিক মহড়া শুরু

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার থেকে এ মহড়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত হুমকির প্রেক্ষাপটে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মহড়া আয়োজন করা হয়েছে। কতদিন এটি চলবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। মহড়া চলাকালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে শুরু পবিত্র রোজা

বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। জলপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।

আরও পড়ুন: দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

আইআরজিসির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর মহড়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করাই এ মহড়ার উদ্দেশ্য।

আবু মুসা দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত আবু মুসা দ্বীপ ও এর আশপাশের জলসীমায় মহড়াটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি দ্বীপটিকে সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে ইরান। আইআরজিসির এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সেখানে এমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর তা আরও তীব্র হয়।

২০২৫ সালের জুনে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে এবং সে সময় তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী। যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন–সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রণতরী টহল দিচ্ছে।

এদিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাট–এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেই আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব চলছে।